৭ বছরেও অসম্পন্ন সিংগাইরে চান্দহর সেতু

৭ বছরেও অসম্পন্ন সিংগাইরে চান্দহর সেতু
সাত বছরেও মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর ওপর চান্দহর সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়নি।
Advertisement
Advertisement

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর ওপর চান্দহর সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘ সাত বছরেও শেষ হয়নি। বারবার মেয়াদ বাড়ানো, একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ও গার্ডার ভেঙে পড়ার ঘটনায় সেতুর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে মেয়াদ ছাড়াই এখনো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান।

২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি ‘পল্লী সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প’-এর আওতায় ৩১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতুর কাজ শুরু করে মেসার্স নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। ৩৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রকল্পটি ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালের ৩০ জুন কাজ অসমাপ্ত রেখেই সরে পড়ে।

পরবর্তীতে কাজ পায় ফরিদপুরের জান্নাত কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে কাজ শুরু করে ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত কাজ হয়নি। ২৮টি পিসি গার্ডারের মধ্যে মাত্র চারটি স্থাপন করা হয়েছে।

গত বছরের মে মাসে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি গার্ডার উত্তোলনের আগেই ভেঙে পড়ে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, নিম্নমানের রেডিমিক্স ব্যবহার, সেতুস্থলে মিক্সিং প্লান্ট স্থাপন না করা এবং নজরদারির অভাবের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।

প্রকল্পটিতে উপজেলা এলজিইডি অফিসের মো. নজরুল ইসলাম নামের এক উপসহকারী প্রকৌশলী তদারকি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। একই কর্মস্থলে থেকে তিনি গত ৫ বছর যাবত এ সেতুটির কাজ তদারকি করছেন বলে জানা গেছে। সেতুর নির্মাণ কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও চলছে আলোচনা।

আরও পড়ুন

সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ফরিদপুর জান্নাত কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এবং দ্য নির্মিতি (জেএন) জেভির প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. সাজিদুল ইসলাম ৪টি পিসি গার্ডার তৈরিতে অন্য জায়গা থেকে রেডিমিক্স এনে ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন এবং অবশিষ্ট ২৪টি গার্ডারের কাজ সেতু নির্মাণস্থলেই মিক্সিং প্লান্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি কাজের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন বলেও জানান এবং উত্তোলনকৃত পিসি গার্ডারের গুণগত মান ভালো বলেও দাবি করেন তিনি।

এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে। সামনের কাজগুলো সাজিয়ে করা হবে। কাজ ভালো করার স্বার্থে রেডিমিক্স বাইরে থেকে আনতে পারি, আবার নাও আনতে পারি।

উপজেলা প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোথা থেকে রেডিমিক্স আনছে, তা তাদের বিষয়। তবে রেডিমিক্সের গুণগত মান ভালো এবং সময় বাঁচানো যাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

প্রকল্প কনসালট্যান্ট সাইদ উজ্জামান জানান, যেসব গার্ডার স্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর গুণগত মান ভালো। তবে ভেঙে পড়া গার্ডার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্ভবত কিউরিং ভালো হয়নি বা টাইমিংয়ে গন্ডগোল হয়েছিল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad