সম্পদের অদক্ষ ব্যবহারই স্বাস্থ্য খাতের বড় সংকট: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

সম্পদের অদক্ষ ব্যবহারই স্বাস্থ্য খাতের বড় সংকট: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

দেশের স্বাস্থ্য খাতে সম্পদের সীমাবদ্ধতার চেয়েও বড় সংকট বিদ্যমান সম্পদের অদক্ষ ব্যবহার ও অব্যবস্থাপনা বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর গুলশানে ‘নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা: গবেষণা থেকে নীতি নির্ধারণ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ ও ‘কোরাস’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যা কিছু সম্পদ আছে, তার একটি বড় অংশই এখনো আন্ডার ইউটিলাইজড বা পুরোপুরি কাজে লাগানো হচ্ছে না।’

জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং একাডেমিক গবেষণার সঙ্গে সরকারি নীতিমালার সমন্বয় জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো তাদের সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করতে পারছে না।

অথচ সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই বিদ্যমান সম্পদ ব্যবহার করে সেবার পরিমাণ প্রায় ৪২ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব। এই বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারণে বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন

ঢাকার মতো মেগাসিটির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলাকার স্বাস্থ্য বৈষম্য নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে মুহিত বলেন, ঢাকার ভেতরে যে বৈচিত্র্য ও বৈষম্য রয়েছে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বিশেষ করে ওয়ার্ড-ভিত্তিক দারিদ্র্যের ম্যাপ এবং স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে আরও সূচারু করা সম্ভব। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সমতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সন্তুষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্য মানে কেবল রোগ মুক্তি নয়, এটি শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির বিষয়। হাসপাতালের উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি সেখানকার পরিবেশ ও ব্যবহারকেও রোগী-বান্ধব হতে হবে।

জনগণের প্রকৃত স্বাস্থ্য চাহিদা যদি সরকারি কার্যক্রমে সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তবেই একটি জনবান্ধব স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণালব্ধ তথ্যের সত্যিকারের প্রতিফলন সরকারি নীতিতে হওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি।

সেমিনারে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ঢাকার নগর স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে কৌশলগত ক্রয় এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর