দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে রক্ষার লক্ষ্যে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন হিসেবে পাস করার জোর দাবি জানিয়েছে স্বাস্থ্য আন্দোলনের নেতারা।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির নেতারা বলেন, তামাক একটি নীরব ঘাতক, যা প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যুর কারণ। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৫৪৫ জনেরও বেশি মানুষ তামাকজনিত কারণে মারা যান। ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের ফলে ফুসফুসের ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে প্রতিবছর প্রায় এক লাখ ৬ হাজার মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং প্রায় এক লাখ মানুষ ক্যান্সারে মারা যান। চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহাকেই এসব রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য আন্দোলনের নেতারা অভিযোগ করেন, তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন কৌশলে তরুণদের লক্ষ্য করে নতুন ভোক্তা তৈরি করছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। নতুন নতুন পণ্য বাজারে এনে তরুণদের দীর্ঘমেয়াদি ভোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে এসব কোম্পানি।
গ্লোবাল ইয়ুথ টোব্যাকো সার্ভে (জিওয়াইটিএস) বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১৩–১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের প্রায় ৯ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে তামাক ব্যবহার করে। পাশাপাশি শিশুরা পরোক্ষ ধূমপানেরও শিকার হচ্ছে। সোসাইটি ফর রিসার্চ অন নিকোটিন অ্যান্ড টোবাকোর (এসআরএনটি) এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯২ শতাংশ শিশুর লালায় নিকোটিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা পরোক্ষ ধূমপানের ফল। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তামাক কোম্পানিগুলো প্রায়ই দাবি করে তারা সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব দেয়। তবে সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী ২০২৩–২৪ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা, অথচ একই সময়ে তামাকজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক মূল্য প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা; যা জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে। অর্থাৎ তামাক খাত রাষ্ট্রকে যে অর্থ দিচ্ছে, তার চেয়েও দ্বিগুণ ক্ষতি করছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রণীত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাস্তবায়িত হলে জনসমাগমস্থলে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, তামাকজাত দ্রব্যের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ করা এবং নতুন প্রজন্মকে তামাকের আগ্রাসন থেকে সুরক্ষা দেওয়া সহজ হবে।
স্বাস্থ্য আন্দোলনের নেতারা জাতীয় সংসদের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনস্বার্থ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে অধ্যাদেশটি দ্রুত আইন হিসেবে পাস করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত।


