সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি বিএনপি এমপির

সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি বিএনপি এমপির
সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে বাজেট আলোচনায় বক্তব্য দেন ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

স্বাধীনতার বিরোধিতা করার কারণে জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল।

সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই দাবি জানান।

বক্তব্যের শুরুতে রফিকুল ইসলাম জামাল তার এলাকাকে বিতর্কিত ও অনুন্নত উল্লেখ করে স্পিকারের কাছে কিছু অতিরিক্ত সময় চেয়ে নেন। এরপর প্রস্তাবিত বাজেটের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য বাজেট রাখা হয়েছে।’

এই প্রসঙ্গে তিনি বিগত ১৭ বছরে ইমাম সমাজকে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে খুন এবং শাপলা চত্বরে মাদ্রাসা ছাত্রদের ওপর হওয়া নির্যাতনের সমালোচনা করেন।

সংসদ সদস্য বাজেটে কওমি মাদ্রাসার জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রীর কাছে এর জন্য বিশেষ বাজেট রাখার অনুরোধ জানান। এরপরই তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করেন।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ‘নামের পরে ধর্ম থাকলেই বা ইসলাম নাম ব্যবহার করলে ইসলাম ধর্মের রাজনীতি হয় না। বিগত নির্বাচনে ভোটের বিনিময়ে বেহেশত দেওয়া এবং বিড়ির সুকটানের মাধ্যমে সব পাপ মওকুফের কথা বলে দলটি একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

এই দলটির ১৯৭১ সালে এদেশের স্বাধীনতার ও সৃষ্টির বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি সংসদে দাবি করেন, তারা বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না এবং ফ্যাসিস্টদের মতো তাদের রাজনীতিও নিষিদ্ধ করা হোক।

জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানানোর পর তিনি তার নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সংসদের সামনে তুলে ধরেন।

প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে রফিকুল ইসলাম জামাল আরও বলেন, ‘বাংলাদেশকে একটি মানবীয় রাষ্ট্র হিসেবে গঠন করার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া উদ্যোগের প্রতিফলন ঘটেছে এই বাজেটে। বিগত বছরগুলোতে বাজেটের পর বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ঘটলেও এবার সাহসী পদক্ষেপের কারণে নিত্যপণ্যের ওপর ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক কমিয়ে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ করা হয়েছে, যার ফলে বাজারে কোনো দ্রব্যমূল্য বাড়েনি।’

তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, এর কারণে আগামী দিনে রোজার মাসে বাজারের অগ্নিমূল্য আর দেখতে হবে না। এই বাজেটকে বিএনপির ৩১ দফার আলোকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘হার্টের রিং এবং চোখের লেন্সের শুল্ক কমানোর মাধ্যমে এই দূরদর্শী বাজেটটি সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর ও মানবীয় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad