সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হতে দৌড়ঝাঁপ

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হতে দৌড়ঝাঁপ
জাতীয় সংসদ ভবন। ফাইল ছবি
Advertisement
Advertisement

মন্ত্রিসভা গঠন ও চিফ হুইপ-হুইপ নিয়োগের পর মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন সরকারি দল বিএনপির অনেক সংসদ সদস্য। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ নেতাদের কাছে এনিয়ে তদ্বির শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে বিএনপির একাধিক সূত্র।

সরকারিভাবে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতিদের আলাদা কোনো বিশেষ মর্যাদা নেই। তবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি করে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি মন্ত্রণালয়কে কোনো নির্দেশ দিতে না পারলেও পরামর্শ দিতে পারে। মন্ত্রণালয়ের কোনো অনিয়ম সংসদে তুলে ধরতে পারে স্থায়ী কমিটি।

এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের যেকোনো কর্মকর্তাকে তলবও করা যায়। এসব কারণে মন্ত্রণালয়গুলোতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পান।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুসারে সংসদ নেতার প্রস্তাবে স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সদস্য নিয়োগ দেন স্পিকার। প্রতিটি কমিটিতে সদস্য থাকেন নয়জন। বর্তমান বিধান অনুসারে কোনো মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে সেই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি করা হয় না। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা স্থায়ী কমিটির সদস্য হন।

মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বা সদস্য হওয়ার জন্য আলাদা কোনো যোগ্যতার দরকার হয় না। তবে কোনো মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত এমন কোনো সংসদ সদস্যকে সেই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি-সদস্য করা যায় না। তবে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের জন্য সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে নির্দিষ্ট কোনো সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি। ফলে সংসদ নেতা যেকোনো অধিবেশনে এই কমিটি গঠন করতে পারেন। আবার কোনো কমিটি গঠনের পর তা পুনর্গঠনও করতে পারেন।

আরও পড়ুন

প্রবীণ সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেক সংসদ সদস্য উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বেশি এমন মন্ত্রণালয়গুলোর সভাপতি হতে চান। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রণালয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পের সংখ্যা বেশি সেসব মন্ত্রণালয়ের প্রতি আগ্রহ বেশি থাকে।

এতে স্থায়ী কমিটির সভাপতি নিজের সংসদীয় এলাকায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে প্রভাব খাটানোর সুযোগ পান। তবে যেসব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দলের কোনো প্রভাবশালী নেতা থাকেন, সেই মন্ত্রণালয়ের সভাপতি হওয়ার প্রতিযোগিতা কম থাকে।

নিয়ম অনুযায়ী সরকারি দলের চিফ হুইপ সংসদ নেতার কাছ থেকে নির্দেশনা অনুযায়ী স্পিকারের কাছে স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের নাম পাঠান।

সংসদের নবনিযুক্ত চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি টাইমস অব বাংলাদেশ’কে জানান, মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠন নিয়ে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এখনো কোনো নির্দেশনা দেননি। চিফ হুইপ আরও জানান, সংসদের প্রথম অধিবেশনের পর পর্যায়ক্রমে এই স্থায়ী কমিটিগুলো গঠন করা হবে।

সাধারণত সকল সংসদ সদস্যই কোনো না কোনো মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। তবে সরকারি দলের বাইরে ভিন্ন দলের কোনো সংসদ সদস্যকে স্থায়ী কমিটির সভাপতি করার নজির খুবই কম। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভিন্ন দলের সংসদ সদস্যকে দুটি স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়েছিল।

বিএনপির শীর্ষমহল সূত্রে জানা গেছে, এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা না পাওয়া সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে অগ্রাধিকার পেতে পারেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর