মানিকগঞ্জে প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনটি সরকারি সেতু সংযোগ সড়কের অভাবে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়ে আছে। জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ জটিলতায় সংযোগ সড়ক তৈরি না হওয়ায় ইছামতী ও কালীগঙ্গা নদী এবং সদর উপজেলার এই সেতুগুলোর সুফল পাচ্ছেন না কয়েক লাখ মানুষ।
মূল অবকাঠামো তৈরি হলেও দুই পাশে রাস্তা না থাকায় কোটি কোটি টাকার এই সরকারি প্রকল্প এখন স্থানীয়দের কোনো কাজেই আসছে না।
এই বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল কাদের জিলানী জানান, হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা সেতুর কাজ শেষ হলেও জমি অধিগ্রহণ ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ বাকি থাকায় সংযোগ সড়ক করা যায়নি। জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে জমি বুঝে পেলেই ঠিকাদার কাজ শুরু করবে।
মূল সেতুর কাজ শেষ হওয়ার পরও জমি অধিগ্রহণ আর ক্ষতিপূরণ দিতে দীর্ঘ সময় লাগায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলী বিলম্বের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ একটি আইনি প্রক্রিয়া এবং জেলা প্রশাসনের কারণে কোনো প্রকল্প আটকে নেই। বর্তমানে বৈকণ্ঠপুর ও জয়রা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
সওজ বিভাগের তথ্যমতে, হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা বাজারের পাশে ইছামতী নদীর ওপর ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো সেতুর বিকল্প হিসেবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৯ কোটি ৬৭ লাখ ৩৪ হাজার ৫৩৮ টাকা চুক্তিতে নতুন সেতুর কাজ পায় ‘ধ্রুব কনস্ট্রাকশন’। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মূল সেতু শেষ হলেও জমি জটিলতায় রাস্তা আটকা পড়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী সাগর আহমেদ জানান, সড়কের জায়গায় থাকা দোকানপাট উচ্ছেদ হলেই তারা দ্রুত কাজ শেষ করবেন।
একই অবস্থা ঘিওর উপজেলার বৈকণ্ঠপুরে কালীগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ৩৬৫ মিটার দীর্ঘ সেতুটিরও। প্রায় ৩৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও চার বছরেও সংযোগ সড়ক পুরোপুরি তৈরি হয়নি। ফলে অন্তত ৩০টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা চঞ্চল মিয়া জানান, শুকনো দিনে নৌকা বা কাঠের অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে পার হওয়া গেলেও বর্ষায় ভোগান্তি অনেক বাড়ে। কোটি টাকার সেতু থাকলেও রাস্তার অভাবে নারী, শিশু ও বয়স্কদের যাতায়াতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে।
সংযোগ সড়ক নির্মাণে ধীরগতির কারণ হিসেবে সেতুর পূর্ব পাশের বাসিন্দা তারা মিয়া জানান, রাস্তা করার আগে জমির টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনিসহ অনেকেই এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি। তাই জমির মালিকরা কাজে বাধা দিচ্ছেন।
অবশ্য এলজিইডি মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম লুৎফর রহমান জানান, বৈকণ্ঠপুর সেতুর সংযোগ সড়কের ক্ষতিপূরণ বাবদ জেলা প্রশাসনকে ৭ কোটি ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ জমির মালিক টাকা পেয়ে গেছেন। বাকিদের অর্থও দ্রুত পরিশোধ করা হবে।
একইভাবে, সদর উপজেলার জয়রা এলাকায় এলজিইডির প্রায় ৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটিও সংযোগ সড়কের অভাবে থমকে আছে। স্থানীয়রা জানান, ১৯৮৮ সালের বন্যায় সৃষ্ট গর্তের ওপর তৈরি পুরনো সরু সেতু এবং পাশে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থাকায় প্রতিদিন তীব্র যানজট হতো। এই সমস্যা কাটাতে পুরনো সেতুর পশ্চিমে নতুন সেতুটি করা হলেও জমির মালিকদের বাধার কারণে সংযোগ সড়কটি আর করা সম্ভব হয়নি।


