শ্রীমঙ্গলে লংলিয়াছড়ার বালু লুট, ঝুঁকিতে সেতু ও পরিবেশ

শ্রীমঙ্গলে লংলিয়াছড়ার বালু লুট, ঝুঁকিতে সেতু ও পরিবেশ
শ্রীমঙ্গলে ছড়ার বুক চিরে বালু লুটপাটে ঝুঁকিতে সেতু ও পরিবেশ। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাত নামলেই শ্রীমঙ্গলের লংলিয়াছড়া নামক ছোট পাহাড়ি নদীটি কেঁপে ওঠে ডায়না ট্রাকের গর্জনে। প্রকাশ্যে প্রতিদিন শত শত ঘনফুট বালু লুট করে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। অভিযোগ রয়েছে, এই লুটপাটের নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন “প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও ড্রাইভার”। পরে  এ সব বালু বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হবিগঞ্জের মিরপুরের বাজারে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লংলিয়াছড়ার ফিনলে চা বাগানের ভেতরের কুঞ্জবন, পাট্টার ব্রিজ, ইসলামপুর, কামারগাঁও, চিড়িগাঁও, বনগাঁও ও পারেরটং পয়েন্ট প্রতিদিন ১০০টির বেশি গাড়িতে বালু লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, নির্বিচারে বালু তোলার কারণে পাট্টার ব্রিজ এখন রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকিতে। চিড়িগাঁও স্টিল ব্রিজের মাটি সরছে, নদীর পাড় ভেঙে যাচ্ছে। এই “অবৈধ বালু ব্যবসা” বন্ধ না হলে যে কোনো মুহূর্তে ব্রিজ ধসে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের। এরই মধ্যে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় কৃষিজমি ও জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

শ্রীমঙ্গলে ছড়ার বুক চিরে বালু লুটপাটে ঝুঁকিতে সেতু ও পরিবেশ। ছবি: টাইমস

অভিযোগ উঠেছে, এর বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযান শেষ হলে কিছুদিন বিরতির পর আবারও পুরোদমে শুরু হয় বালু উত্তোলন।

আরও পড়ুন

সম্প্রতি শ্রীমঙ্গলের সিন্দুরখান ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শহীদ নানু  তার ফেসবুক পেজে প্রশাসনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘সরকারি সম্পদ দিনে-দুপুরে লুট হচ্ছে, অথচ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোনো ভূমিকা নেই!’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সিন্দুরখান ইউনিয়নের ছোট ছোট নদী ও ছড়া থেকে প্রতিদিন শতাধিক ডায়না ট্রাকে করে অবৈধভাবে বালু পাচার করা হচ্ছে। এ সব দৃশ্য যেন সহকারি কমিশনার (ভূমি, এসি ল্যান্ড) সাহেবের চোখেও পড়ে না! বেতন নিতে আপত্তি নেই, কিন্তু দায়িত্ব পালনে নিশ্চুপ কেন?’

লাহারপুর গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুর রব অভিযোগ করে মন্তব্য লেখেন, ‘এসিল্যান্ডের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদেরও কি চোখে পড়ে না, নাকি দেখেও না দেখার ভান করেন?’

তিনি সিলেটি আঞ্চলিক উচ্চারণে বলেন, ‘কয়েকদিন আগে দেখলাম, অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়া সবাই তোলপাড় কইরা লাইলা, এখন কী ঘুমে ধরিলাইছে, না মক্কলে পাইলাইছে!’

‘হারাম ও হালাল যখন এক হয়ে যায়, তখন কিছুই থাকে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি টাকা পেয়ে যায়, তাহলে তাদের আর কিছু লাগে না, শুধু টাকা বানাইতে’ বলে মন্তব্য করেছেন একই ইউনিয়নের আব্দুল আলী।

অভিযুক্ত শ্রীমঙ্গল উপজেলা ভূমি কমিশনারের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ আকন বলেন, ‘আমরা তো নিয়মিত অভিযান করছি। তারা রাত করে বালু তুলছে। তবে, দুর্গাপূজা নিরাপত্তার জন্য ব্যস্ততা থকায় কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। আবার আমরা নিয়মিত অভিযানে যাবো।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad