অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন বাহিনীর প্রধান চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। একই সঙ্গে যানজট নিরসন, কিশোর গ্যাং দমন এবং মাদক নির্মূলকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আইজিপি বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ঈদুল ফিতরের পর দেশব্যাপী এই তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক শেষে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনের সময় পুলিশ নিহত হওয়ার ঘটনায় মামলা হবে কি না–এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ‘সরকার নির্দেশ দিলে পুলিশ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে এ ক্ষেত্রে নতুন কৌশল অবলম্বন করা হবে।
রাজধানীর তীব্র যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঈদের পর রাস্তার পাশে কোনো হকার বা ভ্রাম্যমাণ দোকান বসতে দেওয়া হবে না। হকারদের পুনর্বাসনের জন্য ঢাকা শহরে সপ্তাহে দুদিন নির্দিষ্ট স্থানে ‘হলিডে মার্কেট’ চালু করা হবে।
রাস্তার পাশে দোকান এবং যত্রতত্র পার্কিং যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী দ্রুত যানজট নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ প্রধান জানান, ইতোমধ্যে অপরাধবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। অপরাধের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এলাকাভিত্তিক অপরাধ দমনে কাজ করবে পুলিশ।
আইজিপি দৃঢ়ভাবে বলেন, অভিযানের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। অপরাধ দমনে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, পুলিশ জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করবে।
কিশোর গ্যাং ও পাড়া-মহল্লার অপরাধ দমনে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে–তা নজরে রাখা জরুরি। জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও পরিবার একসঙ্গে কাজ করলে পুলিশের পক্ষে অপরাধ দমন সহজ হবে।
১৫তম বিসিএস ব্যাচের এই কর্মকর্তা কিশোর গ্যাং এবং মাদককে দেশের অন্যতম প্রধান সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলের নেতা এবং সুশীল সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিময় সমাজ গঠন সম্ভব। জনগণের সমর্থন থাকলে পুলিশকে একটি জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা এবং অপরাধের শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব হবে।
আইজিপি স্বীকার করেন, পুলিশের একসময়ের গৌরবোজ্জ্বল ভাবমূর্তি নানা কারণে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। অতীতে এই বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ফলে জনগণের আস্থা কমেছে। তাই পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে এনে জনগণের বিশ্বাস অর্জনই এখন মূল লক্ষ্য।
পুলিশের ইউনিফর্ম বা পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। সরকার মতামত চাইলে পুলিশ বিভাগ মতামত দেবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অপরাধ দমনের আধুনিক পদ্ধতির উদাহরণ টেনে আইজপি প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে থাকবে? তিনি বলেন, আইন মেনে চলা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশজুড়ে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হবে।


