শেরপুরে নির্বাচনী সহিংসতায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম হত্যা মামলার এক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
সোমবার রাতে ঝিনাইগাতী উপজেলার বনগাঁও এলাকার বিল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত মাহমুদুল হাসান রুবেল (৩৪) ঝিনাইগাতী উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এ হত্যা মামলার ৫৫নং আসামী।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নালিতাবাড়ী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফসান-আল-আলমের নেতৃত্বে বনগাঁও এলাকায় অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। পরে বনগাঁও এলাকার বিল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃতকে সকালে আদালতে পাঠানো হবে।
তাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শেরপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। দলের আহ্বায়ক মো. মামুন অর রশিদ মামুন ও সদস্য সচিব মো. নিয়ামুল হাসান আনন্দ এক বিবৃতিতে জানান, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করার যেকোন অপচেষ্টা দেশের জনগণ কখনোই মেনে নেবে না। সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’
গত ২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম। পরে তাকে ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে সেদিন রাতেই মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ৩০ জানুয়ারি রাতে নিহতের স্ত্রী মারজিয়া ঝিনাইগাতী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ওই আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলকে প্রধান আসামি করে ২৩১ জনের নামীয় ও অজ্ঞাত আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামী করা হয়।


