মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন বাংলাদেশের কনডেনসেট (অপরিশোধিত তেল) পাইপলাইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে বাবা ও ছেলের পর এবার মায়েরও মৃত্যু হয়েছে।
ফারজানা আক্তার পারভীন (৪০), তার স্বামী বশির মিয়া (৫০) ও ছেলে রেদোয়ান মিয়া (২২) চার দিনের ব্যবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান।
ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের পর ফারজানার জানাজা বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে পাইপলাইনে তেল চুরির চেষ্টার সময়ে তেল ছড়িয়ে পড়ে এবং হঠাৎ আগুন ধরে। আগুনের মধ্যেই বশির মিয়া ও তার পরিবার তেলের গন্ধে নিচে নামেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুনে দগ্ধ হয়ে যান তিনজন। প্রাথমিক চিকিৎসা সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে হলেও অবস্থা গুরুতর হওয়ায় পরদিন তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
নিহতদের পরিবার অভিযোগ করেন, ‘শেভরন কোম্পানি চিকিৎসা বাবদ ৭০ হাজার টাকা দিয়েছে। প্রশাসনের কাছ থেকে ৪০ হাজার পাওয়া গেছে, কিন্তু এর বাইরে আর্থিক কোনো সহযোগিতা বা ক্ষতিপূরণ নেই। আমরা চাই, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য সালেক মিয়া বলেন, ‘এই পরিবারটি সাধারণ মানুষ। এত বড় দুঃখের মধ্যে তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব।’
ঘটনার পর প্রশাসন ও পেট্রোবাংলা পৃথকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সোমবার সই করা আদেশে মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করা হয়। সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে পুলিশ সুপার (প্রতিনিধি), শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক। কমিটিকে দ্রুততম সময়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শেভরন বাংলাদেশের মিডিয়া ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপক শেখ জাহিদুর রহমান বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা পাইপলাইনে ছিদ্র করে তেল চুরি করতে গিয়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে। শ্রীমঙ্গল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে আমরা শোক প্রকাশ করছি। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
‘চার দিনের ব্যবধানে তিনজনের মৃত্যু এক দরিদ্র পরিবারে যে শূন্যতা তৈরি করেছে, তা সহজে ভোলা যাবে না’ যোগ করেন তিনি।
সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা করা হবে বলে তিনি পরিবারের কাছে প্রতিশ্রুতি দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক মাস ধরে বালু ভর্তি ড্রাম ট্রাকে তেরপাল দিয়ে কনডেনসেট তেল পাচার করা হচ্ছিল। প্রধান সন্দেহভাজনরা অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে পলাতক রয়েছে।


