মানবতাবিরোধী অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
ঢাকায় অবস্থিত ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট আদালত এলাকাজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী। নিরাপত্তার স্বার্থে দোয়েল চত্বর হয়ে শিক্ষা ভবনের দিকের রাস্তায় চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন জায়গায় চলছে তল্লাশী। মাজার গেটের সামনেও এদিন সেনাবাহিনীকে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের মামলার রায় সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি।
এ দিনটি ঘিরে রোববার থেকে দুই দিন ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। এর আগে রায়ের দিন ঘোষণাকে ঘিরে ১০ থেকে ১৩ নভেম্বর বিক্ষোভ ও ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি দেয় কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগ।
এসব কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকে ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় গত ১০ জুলাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
একপর্যায়ে দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

গত ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা পড়ে এবং ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। ১০ জুলাই পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়, যার মধ্যে ছিল সংবাদ সম্মেলনে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া এবং রংপুর, ঢাকা ও আশুলিয়ায় একাধিক হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততা।
শুরুতে শেখ হাসিনাই ছিলেন এই মামলার একমাত্র আসামি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার অপসারণের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর মামলাটি করা হয়। পরে চলতি বছরের ১৬ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ট্রাইব্যুনাল সাবেক আইজিপি মামুনকে সহআসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।


