টঙ্গীতে শিক্ষকের চুমুকাণ্ড/ ‘শিক্ষকরা বাবা-মায়ের বিকল্প অভিভাবক, বিচ্ছিন্ন ঘটনায় পুরো সমাজকে লক্ষ্যবস্তু করা অনুচিত’

‘শিক্ষকরা বাবা-মায়ের বিকল্প অভিভাবক, বিচ্ছিন্ন ঘটনায় পুরো সমাজকে লক্ষ্যবস্তু করা অনুচিত’
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। শিক্ষকদের প্রতি মানুষের যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা, তা যেন কোনো আচরণের কারণে বিন্দুমাত্র নষ্ট না হয়।

টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় চুমুকাণ্ডে শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের ঘটনা প্রসঙ্গে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অপরাধের অভিযোগ থাকলে আইনি প্রক্রিয়ায় তার বিচার হতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুরা যেন শিক্ষকদের কাছে নিজেদের অনিরাপদ মনে না করে, তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশে বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন ও আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থা রয়েছে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমার মনে হয় পৃথিবীতে খুব কম দেশেই এত বেশি আইন আছে। বাংলাদেশে এমন কোনো আইন নেই, যা প্রত্যেকটা সিচুয়েশনকে ডিল করে না। এটা একটা আশ্চর্য বিষয়।’

সম্প্রতি টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘যদি কোনো কারণে কোনো ব্যক্তি অপরাধ করেন, সেই অপরাধের জন্য তিনি শাস্তি ভোগ করবেন। যদি কোনো কারণে তিনি অন্যায়ের শিকার হন, তাহলে তিনি নিরপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। কারোরই নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া উচিত নয়।’

আরও পড়ুন

শিক্ষকদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকরা বাবা-মায়ের বিকল্প অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এক বা দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য পুরো শিক্ষক সমাজকে লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়।’

‘সন্তানের কোনো ক্ষতি হলে মা-বাবার আবেগ স্বাভাবিক। এ ঘটনায় মা-বাবার আবেগের জায়গাটিকে অনেকে সমর্থন করছেন। পুরো বিষয়টি আইনি কাঠামোর মধ্যে সমাধান করা সম্ভব’ বলেও মনে করেন মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি জানান, গাজীপুরের ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তা তদন্তাধীন। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সেখানেই ঘটনার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করেন তিনি।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের অভিযোগ, গত ১৯ অক্টোবর সোমবার টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার মাদ্রাসাটির নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয়। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা এর কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে সে নিপীড়নের ঘটনার কথা জানায়।

এরপর ২১ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের কয়েকটি ভিডিও বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাদ্রাসার ভেতরে কয়েকজন ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ওই শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের স্টুডেন্টদের সঙ্গে আমার অন্য রকম সম্পর্ক, সবার সঙ্গে, বিশেষ করে ক্লাস ওয়ানের। তার একপর্যায়ে আমি বললাম, চুমু…।’ এরপর ‘কিসের চুমু রে’ বলে তাকে থাপ্পড় ও মারধর শুরু করেন শিশুটির স্বজনেরা।

একপর্যায়ে ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক কারাগারে রয়েছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad