শাহবাগে মব: পুলিশের পরামর্শে হামলা, অস্বীকার ওসির

শাহবাগে মব: পুলিশের পরামর্শে হামলা, অস্বীকার ওসির
‘আজাদী আন্দোলন’-এর ব্যানারে একটি দল ‘সমকামী’ অভিযোগে কয়েকজনের ওপর হামলা চালায়। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে | ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ঢাকার শাহবাগে একটি হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে আয়োজক সংগঠনটি। তাদের দাবি, পুলিশের সঙ্গে আগে কথা বলেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহবাগে ‘আজাদী আন্দোলন’-এর ব্যানারে ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল ‘সমকামী’ অভিযোগে কয়েকজনের ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও আয়োজকদের তথ্যমতে, এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীদের ওই এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে।

প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক মো. শাহরিয়ার আলম টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘জাদুঘরের সামনে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর উপস্থিতির বিষয়ে ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামানকে জানিয়েছিলাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ৩ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওসির সঙ্গে এ বিষয়ে আবারও আলোচনা হয়।’

শাহরিয়ারের দাবি অনুযায়ী, ওসি বিষয়টি পুলিশের জন্য ‘বিব্রতকর’ বলে স্বীকার করেন এবং আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে না পারার কথা বলেন।

শাহরিয়ার জানান, ওসি তাদের সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন, তবে কোনো প্রকার শারীরিক সহিংসতায় জড়াতে নিষেধ করেছিলেন।

আরও পড়ুন

পুলিশ এই অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি ছুটিতে ছিলাম এবং এ বিষয়ে অবগত নই।’

রমনা জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলমও আগে থেকে আলোচনার বিষয়টি নাকচ করে বলেন, ‘কী ঘটেছিল তা নিশ্চিত করতে ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে।’

মূল অভিযুক্ত শাহরিয়ার আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং খেলাফত ছাত্র মজলিশের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক। তিনি খেলাফত মজলিশের আমির ও ১১ দলীয় জোটের নেতা মামুনুল হকের অনুসারী। এ ছাড়া, তিনি নিজেকে ‘জুলাই মঞ্চ’ নামক একটি প্ল্যাটফর্মের মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবেও পরিচয় দেন।

জানা গেছে, এই হামলায় আরও কয়েকটি ইসলামপন্থী ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরা জড়িত আছেন। তবে শাহরিয়ার আলম টাইমসকে বলেন, ‘আমাদের অনুষ্ঠান ছিল উন্মুক্ত। নিষিদ্ধ সংগঠন এসে থাকলে তার দায়ভার তাদের।

হামলার বিষয়ে খেলাফত মজলিশের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ভুল।’ তবে অভিযুক্ত শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি।

‘আজাদী আন্দোলন’ মূলত ফেসবুক কেন্দ্রিক একটি প্ল্যাটফর্ম। গত ৩০ জানুয়ারি, রমজান মাসের শুরুর সময়ে শাহরিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করে প্ল্যাটফর্মটির যাত্রা শুরু করেন।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘সমাজের প্রয়োজনে মাঝেমধ্যে ব্যক্তিদের আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে কাজ করার প্রয়োজন পড়ে।’ নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য প্রাণ গেলেও তিনি একে ‘জান্নাতের পথ’ হিসেবে গণ্য করবেন বলে জানান।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad