জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এ আদেশ দেয়।
এর মধ্য দিয়ে এ মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হলো। এছাড়া প্রসিকিউশনের উদ্বোধনী বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১০ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে। ২৩ এপ্রিল এ মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়।
১৯ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের স্বপক্ষে শুনানি করে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান দমনে অস্ত্র হাতে নিয়ে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি শামীম ওসমান। ছাত্র-জনতাকে হত্যার পুরো পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন শামীম ওসমান। তিনি নিজেও অস্ত্র হাতে নিয়ে গুলি করেছেন।
এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের প্রথম অভিযোগ হলো, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ডসহ আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল, ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপসহ ছয়জনকে হত্যা।
দ্বিতীয় অভিযোগ, ২১ জুলাই ফতুল্লা থানাধীন ভূইগড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা। তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যার কথা বলা হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অনুমতি নিয়ে নিজের সশস্ত্র বাহিনী তথা এ মামলার ১১ আসামিকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ড চালান শামীম ওসমান।
এ মামলায় শামীম ওসমান ছাড়াও তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমানসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। তবে আসামিদের সবাই পলাতক।
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, চাষাড়া ও সাইনবোর্ড এলাকায় ১০ জনকে হত্যা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়।


