ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু আদালতকে জানিয়েছেন, তিনি কারাগারে দুটি খাতা একটি লাল ও একটি সবুজ রেখেছেন, যেখানে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিস্তারিত তথ্য, কোন আদালত কী আদেশ দিচ্ছে, তার সবকিছুর হিসাব সংরক্ষণ করছেন।
সোমবার তাকে বংশাল থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের শুনানির জন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে হাজির করা হলে তিনি এ তথ্য জানান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি হারুন অর রশীদ বলেন, ইনুর এ বক্তব্য আদালতকে ‘হুমকি’ দেওয়ার শামিল এবং এটি আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, ‘ইনু বলেছেন, কোন আদালত কী আদেশ দিচ্ছেন এবং কোন আইনজীবী আদালতে কী বলছেন, তার সবকিছুর রেকর্ড তিনি সংরক্ষণ করছেন।’
হারুন অর রশীদ জানান, আদালত তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে এবং আদালত অবমাননার বিষয়ে পরে আদেশ দেবেন।
এর আগে সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননকে একই আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি হারুন অর রশীদ পুলিশের আবেদনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দেন ইনু।
শুনানির আগে আদালতের হাজতখানায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানো নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ইনু দাবি করেন, ‘বিচার বিভাগ এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি শাখা হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।’
শুনানি শেষে আদালত ইনু ও মেনন—উভয়কে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়। তবে ইনুর বক্তব্য আদালত অবমাননার শামিল কি না, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল মোড়ে নাজিমউদ্দীন রোডে একটি মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় বাদী মো. মোখলেছিন গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় মোখলেছিন বাদী হয়ে গত বছরের ১ জানুয়ারি একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।


