লালমনিরহাটের তিনটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ ইনের (অনুপ্রবেশ) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা এবং আদিতমারী সীমান্তে শুক্রবার ভোরে পুশ ইনের তিনটি আলদা ঘটনা ঘটে।
তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তীব্র বাধা ও তৎপরতায় বিএসএফের এই অপচেষ্টা নস্যাৎ হয়। অনুপ্রবেশ রুখতে বর্তমানে সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। এই পরিস্থিতিতে পুরো সীমান্ত এলাকাজুড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে পাটগ্রামের শ্রীরামপুর সীমান্তের পয়ষট্টিবাড়ী এলাকা দিয়ে ১০ জন, হাতীবান্ধার ফকিরপাড়া সীমান্ত দিয়ে ১১ জন এবং আদিতমারীর দীঘলটারি সীমান্তের ৯২৫নং মেইন পিলারের দুটি এলাকা দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিএসএফের কড়া পাহারায় শূন্যরেখায় আটকে থাকা এসব মানুষের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনটি পয়েন্টের মধ্যে পাটগ্রামের শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাবুল কামাত পানিসালা সীমান্তে ১০ জনকে পুশইনের সুনির্দিষ্ট বিবরণ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীনস্থ সীমান্ত পিলার ৮৪৬-এর ১/২ এস-এর মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে ভারতীয় ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা ভোরে এই ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবির টহল দল ও স্থানীয় জনগণ তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুললে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়।
বর্তমানে ওই ব্যক্তিরা জিরোলাইন থেকে ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। ওই সীমান্তে পুশইনের শিকার হওয়া এই ১০ জন একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। তারা হলেন মোস্তফা বিশ্বাস (২৬), আজগার আলী (৫৪), মোর্শেদ (২০), রেহানা বিশ্বাস (২২), ফাতেমা বিবি (৩০), জাহেদা বেগম (৪০), অনুপা (২০), লিসা খাতুন (২৫), তাসলিমা (২৬)। তাদের সঙ্গে এক শিশুও রয়েছে।

এ বিষয়ে পয়ষট্টিবাড়ী বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েব সুবেদার মিজানুর রহমান বলেন, ‘ভোর ৪টা ২০ মিনিটে এই পুশইনের ঘটনা ঘটে। সীমান্তে আমাদের টহল দল প্রস্তুত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। ওই ব্যক্তিদের বর্তমানে ভারতীয় অংশে ইন্টারভিউতে রাখা হয়েছে এবং তারা জিরোলাইন থেকে ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। পুরো বিষয়টি নিয়ে বিজিবি অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।’
দূর্গাপুর সীমান্তের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক ও মোস্তাকিন আলী জানান, সকালে ১২ জনকে বাংলাদেশের সীমানায় নিয়ে আসে বিএসএফ। স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পেয়ে তাৎক্ষনিক প্রতিরোধের চেষ্টা করে। পরে বিজিবি এসে পুশইন রুখে দিতে চেষ্টা করে।
বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় বিএসএফ পুশইনে ব্যর্থ হয়ে ভারতের সীমানায় চলে যায়। বর্তমানে তারা সীমান্তের ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে রয়েছে।
একই চিত্র দেখা যায় জেলার হাতিবান্ধা ফকিরপাড়া সীমান্তেও।
১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, দূর্গাপুর সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের সঙ্গে বর্তমানে পতাকা বৈঠক চলছে। বিস্তারিত আলোচনা শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


