রংপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকার তৃতীয় নম্বর লাইনে বুড়িমারী লোকাল ট্রেনের ইঞ্জিন এবং একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে লাইনচ্যুত ট্রেনের বাকি বগিগুলো মূল লাইনে আটকা পড়ায় রংপুরের সঙ্গে কাউনিয়া, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, বামনডাঙ্গা এবং বগুড়া রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশনের সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে আসা বুড়িমারী গামী ৪৬১ লোকাল ট্রেনটি রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের তিন নম্বর ক্রোচিং পয়েন্টে পৌঁছালে ইঞ্জিন এবং একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ সময় ট্রেনের চালক মুহূর্তেই ব্রেক করায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটে নি।
তবে, দুর্ঘটনার কারণে রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশনের বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়েছেআন্ত:নগর দোলনচাপা, রামসাগর, বুড়িমারী কমিউটার, রমনা লোকাল, লালমনিরহাট কমিউটারসহ বিভিন্ন ট্রেন।

বেলা সাড়ে ১২ টায় বুড়িমারী লোকাল ট্রেনের ইঞ্জিন এবং লাইনচ্যুত বগিটি রেখে বাকি ছয়টি বগি আরেকটি ইঞ্জিন দিয়ে সরিয়ে স্টেশনের এক নম্বর লাইনে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, দুই নম্বর লাইনে উদ্ধারকারী ট্রেন থাকায় এখনো পর্যন্ত রেল যোগাযোগ বন্ধই রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সলিমুল্লাহ মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই লাইনের স্লিপারগুলো মেরামত করা হয় না। পানিতে কাঠের স্লিপারগুলো পড়ে গেছে। এ ছাড়াও কোনো পাথর নেই। এ কারণেই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে। তবে, চালকের উপস্থিত বুদ্ধিতে এ সময় ট্রেনে থাকা বিপুল পরিমাণ যত্রি প্রাণে বেঁচে গেছে।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী মাহিদুল ইসলাম জানান, তিন নম্বর লাইনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও স্টেশন মাস্টার ওই লাইনে গাড়ি আটকায়। এ সময় ড্রাইভার দ্রুত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ না করলে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটতো। স্লিপারগুলো অনেকদিন ধরে ঠিক না করায় নষ্ট হয়ে গেছে। বেশ কিছুদিন আগে দুই নম্বর লাইনের স্লিপার ঠিক করা হলেও তিন নম্বর লাইনটি ঠিক করেনি রেলওয়ের পিডব্লিউডি। উল্টো সেগুলো বিক্রি করে টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

পাবর্তীপুরগামী যাত্রী আকলিমা খাতুন বলেন, ‘আল্লাহ অল্পের জন্য কয়েকশ যাত্রীকে রক্ষা করেছেন। ট্রেনটি দ্রুত থামিয়ে দেওয়া না হলে সবকটি বগি লাইনচ্যুত হতো।’
রংপুর রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় স্টেশনের তিন নম্বর লাইনে ক্রোচিংয়ের কাছে ৪৬১ নম্বর বুড়িমারী লোকাল কমিউটার ট্রেনটির ইঞ্জিন ও বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে এই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জরুরী ভিত্তিতে ট্রেনটির বাকি ছয়টি বগি ইঞ্জিন দিয়ে সরিয়ে এক নম্বর লাইনে নেওয়া হয়েছে। বেলা ১ টায় লালমনিরহাট থেকে রিলিফ ট্রেন এসেছে। তারা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন ‘প্রাথমিকভাবে লাইনের স্লিপারগুলো যে দুর্বল, এ বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তবে কেন এটা হলো সে বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। আপাতত লাইন স্বাভাবিক করার পর এ বিষয়ে তদন্ত কমিটিসহ যা যা করা দরকার সব করা হবে।’


