টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে একটি মহিলা হেফজখানার (মাদ্রাসা) দেয়াল ধসে চার শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
বুধবার বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে অবস্থিত খাতিজাতুল মহিলা হেফজখানায় এ ঘটনা ঘটে। ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত ডিআইজি সিরাজ আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, প্রবল ঝড়-বৃষ্টি ও পাহাড়ধসের কারণে হেফজখানার একটি দেয়াল ধসে পড়ে। সে সময় ভেতরে থাকা সাতজন ছাত্রী আহত হয়। স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্টরা তাদের উদ্ধার করে ক্যাম্প-৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিহতরা হলো ক্যাম্প-৫ এর এ-ব্লকের বাসিন্দা হাসিম উল্লাহ মেয়ে রাশিদা বেগম (১৩), ৩ নম্বর ক্যাম্পের এফ-১ ব্লকের আবদুস শুকুরের মেয়ে উম্মে নেজাতুল (১৩) ও উম্মে সালমা (১২) এবং ক্যাম্প-৫ এর ব্লক-এ-৮ এর মোহাম্মদ ইলিয়াসের মেয়ে উমাইসা বিবি (১৩)
আহতরা হলো- ক্যাম্প ৩ এর ব্লক এপ- ১ এর নুরুল আমিনের মেয়ে বেগম জান (১৫), ক্যাম্প ৫ এর বশির আহমেদের মেয়ে ফারেসা বিবি (১২) ও দিল মোহাম্মদের মেয়ে আসরা (৯)।
মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, টানা ভারী বর্ষণে ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পরই হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করা যাবে।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার ডলার ত্রিপুরা বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও নরম মাটির কারণে উদ্ধারকাজে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বুধবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় জেলায় ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বর্তমানে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো উদ্ধার ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কাজ করছে।
এর আগে, মঙ্গলবার সকালে পাহাড়ধসে কক্সবাজার শহরে একজন এবং সোমবার উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে আটজন নিহত হন। একই দিনে কক্সবাজার শহর ও পেকুয়ায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ভারী বর্ষণে পানিতে ডুবে এক রোহিঙ্গা শিশুসহ দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
সব মিলিয়ে গত তিন দিনে কক্সবাজার জেলায় টানা বর্ষণ, পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


