‘মেইড ইন বাংলাদেশ’খ্যাত পরিচালক সৈয়দা রুবাইয়াত হোসেনের নতুন সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই সিনেমাটির চিত্রনাট্য নিয়ে বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ঘুরেছেন এবং আন্তর্জাতিক ফান্ডও পেয়েছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া তিন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, রিকিতা নন্দিনী শিমু ও সুনেরাহ বিনতে কামাল এই সিনেমায় অভিনয় করছেন। তাদের সঙ্গে আরও আছেন জাইনিন করিম চৌধুরী।
২০২১ সালে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’-এর জন্য বাঁধন, ২০১৯ সালে ‘ন ডরাই’-এর জন্য সুনেরাহ এবং ২০২২ সালে ‘শিমু’-এর জন্য শিমু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মাননা পান। তারা অনেকটাই গোপনে সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন।
সিনেমাটির গল্পে দেখা যায়, এক মেয়ে রূপকথার মতো আয়োজনে তার বিয়ের স্বপ্ন দেখে, কিন্তু সে ভেতরে ভেতরে এক জটিল রোগে ভুগছে। ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করেও সমস্যা সমাধানে কোনো ফল না পাওয়ায় তার মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। একদিন সে বিউটি পার্লারে গিয়ে লম্বা চুলের এক রহস্যময় নারীকে কল্পনায় দেখতে শুরু করে। এই সিনেমার জনরা সামাজিক হলেও এর সঙ্গে হরর ঘরানা যোগ হয়েছে। এটি মূলত বিয়ে, মেকআপ ও একটি বিউটি পার্লারের গল্প নিয়ে তৈরি, যেখানে নারীদের গল্প এবং সচেতনতার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।
নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন গল্পটি নিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে কাজ করছেন। তিনি জানান, তিনি ২১ বছর ধরে গল্পটি মনের মধ্যে রেখেছেন এবং বারবার লিখেছেন, যা তার জীবনের অর্ধেক সময়জুড়ে আছে। ২০০৬ সালে তিনি প্রথমে এটি স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা হিসেবে নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত বদলে পূর্ণদৈর্ঘ্য নির্মাণের দিকে যান। অবশেষে একটি দুর্দান্ত টিম নিয়ে সিনেমাটি বানাতে পারাকে তিনি ‘মিরাকলের মতো’ বলে অভিহিত করেছেন।
সিনেমাটি পাঁচটি দেশ থেকে অনুদান পেয়েছে এবং রুবাইয়াত হোসেনের সঙ্গে ফ্রান্স (ফ্রাঁসোয়া ডি’আর্টেমারে), জার্মানি (আন্না ক্যাচকো), পর্তুগাল (পেড্রো বোর্গস) এবং নরওয়ের (ইনগার্ড লিল হটন) প্রযোজকরা যৌথভাবে এটি প্রযোজনা করেছেন। পর্তুগিজ নির্মাতা লিওনর টেলস সিনেমাটির চিত্রগ্রহণে আছেন এবং অন্যান্য বিভাগেও আন্তর্জাতিক কলাকুশলীরা কাজ করেছেন।
বর্তমানে সিনেমাটির পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে আগামী বছরের মার্চ নাগাদ এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে। ১৩ ডিসেম্বর থেকে ফ্রান্সে শুরু হতে যাওয়া লেস আর্কস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ওয়ার্ক-ইন-প্রোগ্রেস প্রোগ্রামে এশিয়ার একমাত্র সিনেমা হিসেবে এটি প্রদর্শিত হবে।


