রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার মৃত্যুদণ্ড পাওয়ায় অনাপত্তি জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ। তিনি বলেন, ‘অপরাধী তার অপরাধের শাস্তি পেয়েছে।’
রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেহীনের আদালত আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী বলেন, ‘আসামি সোহেল রানা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজে দোষ স্বীকার করেন। রায়ে সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হয়েছে। ন্যায় বিচার পেয়েছি। অপরাধী অপরাধের বিচার পেয়েছে। আমি সন্তুষ্ট।’
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে ঘর থেকে বের হয়। তখন স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি। পরে রামিসার বাবা-মা ও অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। শিশুটির মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে রাখা ছিল।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় ২০ মে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন।


