পোষ্য কোটা পুনর্বহাল ও উপউপাচার্যসহ শিক্ষক লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে একত্রিত হয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই কর্মসূচি পালন করেন। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি।
তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের সব কার্যক্রমসহ জরুরি সেবা এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে বলে জানানো হয়।
তারা বলেন, ‘দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক কোটা আছে। তাহলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন পোষ্য কোটা থাকবে না?’
এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর পোষ্য কোটাকে কেন্দ্র করে উপউপাচার্য অধ্যাপক মাঈন উদ্দীন, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান ও জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদারকে অবরুদ্ধ করে রাখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
হাতাহাতির একপর্যায়ে উপউপাচার্য, উপরেজিস্ট্রারসহ কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আহত হন। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
একই দিন বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।
মানববন্ধনে তারা বলেন, ‘শিক্ষক ও কর্মচারীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা খুবই দুঃখজনক। কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এমন আঘাত মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
বিচার না করা পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করবে বলেও জানান তারা।
১৩ সেপ্টেম্বরের হাতাহাতির ঘটনার পরদিন রাত ১টার দিকে আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পোষ্যকোটায় ভর্তি কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ ঘোষণা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানিয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউনের’ ঘোষণা দেয় অফিসার্স সমিতি।


