রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে হাম উপসর্গে ১২ শিশু ভর্তি

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে হাম উপসর্গে ১২ শিশু ভর্তি
হামের প্রকোপ। ফাইল ছবি
Advertisement
Advertisement

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশু নতুন করে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে বর্তমানে হাসপাতালটিতে মোট ১২ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১৫ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও বর্তমানে ১২ শিশু হাসপাতালের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে কথা হয় রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুলতানপুর থেকে আসা মা রহিমা বেগমের সঙ্গে। তিন বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে গত ২ দিন ধরে হাসপাতালে আছেন তিনি। উদ্বেগভরা কণ্ঠে এই মা বলেন, ‘হঠাৎ করেই ছেলের প্রচণ্ড জ্বর আর শরীর লাল হয়ে ফুলে ওঠে। ভয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসছি। আগে একবার টিকা দিছিলাম, ভাবছিলাম আর হবে না। এখন ডাক্তাররা বলছেন বিশেষ ক্যাম্পেইনে আবার টিকা দেওয়া দরকার ছিল।’

গোয়ালন্দ থেকে আসা আরেক অভিভাবক আব্দুল জলিল জানান তার মেয়ের অসুস্থতার কথা। তিনি বলেন, ‘গ্রামের অনেক ছেলে-মেয়ের এখন এমন জ্বর আর গায়ে দানা দেখা দিচ্ছে। আমরা প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে করছিলাম। পরে হাসপাতালে আনার পর জানলাম এটা হাম হতে পারে। এখন ডাক্তাররা চিকিৎসা দিচ্ছেন। মেয়ে এখন আগের থেকে ভালো আছে।’

আরও পড়ুন

রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শেখ মো. আব্দুল হান্নান জানান, ‘ভর্তি থাকা শিশুদের মধ্যে হামের সাধারণ লক্ষণ যেমন- তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি এবং কাশি-সর্দি দেখা যাচ্ছে। তবে ল্যাব পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত আমরা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। আপাতত তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’

জেলা সিভিল সার্জনএস এম মাসুদ পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে গত ২০ এপ্রিল থেকে জেলায় হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা আগামী ১০ মে পর্যন্ত চলবে। এই ক্যাম্পেইনের আওতায় রাজবাড়ীর ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৬০ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন আরও জানান, ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, যেসব শিশু আগে এই টিকা নিয়েছে, তাদেরও এই বিশেষ ক্যাম্পেইনে পুনরায় টিকা নিতে হবে। কারণ, এই নির্দিষ্ট বয়সের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকে।

স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে অভিভাবকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাদের শিশু এখনো টিকা নেয়নি, তারা যেন দ্রুত অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে নিকটস্থ কেন্দ্র থেকে টিকা নিয়ে নেয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad