ঢাকায় ছোট-বড় প্রায় ৩০০ ভবনকে ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।
সোমবার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সভায় একথা জানিয়েছেন রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম। ভূমিকম্প পরবর্তী কার্যক্রম বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের নিয়ে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ‘রাজধানীতে এ পর্যন্ত ৩০০টি ছোট-বড় ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।’
ঢাকা ও গাজীপুরের আনুমানিক ২১ লাখ ভবনের মধ্যে মাত্র ৩ হাজার ২৫২টি স্থাপনার ভূমিকম্প সহনশীলতা মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে সভায় রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
মতবিনিময়ে রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মো. ওয়াহিদ সাদিক জানান, এফইএমএ-৩১০ নির্দেশিকা অনুসরণ করে এই মূল্যায়ন করা হয়েছিল।
মূল্যায়ন করা ভবনগুলোর মধ্যে ২ হাজার ৭০৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২০৭টি হাসপাতাল, ৩৬টি থানা এবং ৩০৭টি অন্যান্য ধরনের স্থাপনা রয়েছে।
এই প্রাথমিক স্ক্রিনিংয়ের পর, ৫৬৮টি স্কুল, পাঁচটি হাসপাতাল, তিনটি ফায়ার স্টেশন এবং তিনটি অন্যান্য স্থাপনাসহ ৫৭৯টি ভবনে প্রিলিমিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট (পিইএ) করা হয়।
এছাড়া, ৯৪টি স্কুল, ৭৮টি কলেজ, ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারটি হাসপাতালসহ আরও ১৮৭টি ভবনে ডিটেইল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট (ডিইএ) করা হয়েছিল। এই ক্যাটাগরির সমস্ত ভবনে রেট্রোফিটিং করার সুপারিশ করেছে রাজউক।
উচ্চ ভূমিকম্প ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে, রাজউক ঢাকা ও গাজীপুর জুড়ে ৪২টি ভবন ভেঙে ফেলার সুপারিশও করা হয়েছে।
সভায় গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ভূমিকম্পজনিত ক্ষতি কমাতে নীতিগত বিভিন্ন নির্দেশনা দেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী এবং অধ্যাপক তানভীর মঞ্জুর ভূমিকম্প প্রস্তুতি এবং ভূমিকম্প পরবর্তী ব্যবস্থাপনার ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
আদিলুর রহমান খান বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে জনগণের প্রস্তুতির পাশাপাশি সকল সরকারি সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
রিজওয়ানা হাসান জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং রাজউককে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিস্তারিত মূল্যায়নের পরামর্শ দেন।
রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি ভবন নির্মাতা ও মালিকসহ সব অংশীজনের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থা, পেশাজীবী সংগঠন, বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ও গবেষক, রিহ্যাব এবং দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


