রাঙ্গামাটি জেলায় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
রাঙ্গামাটির পাহাড় কাটা বন্ধে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, যে পাহাড় কাটা হয়েছে সেগুলোকে ভরাট করার কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
একটি রিটের শুনানি করে বুধবার বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী এবং বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করে। চার সপ্তাহের মধ্যে পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তের ডিজি, চট্টগ্রামে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক, চট্টগ্রামের ডিসি, রাঙ্গামাটির এসপি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সদর থানার ওসি এবং রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস চ্যান্সেলরকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রাঙ্গামাটি জেলায় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করতে পাহাড় কাটা হচ্ছে মর্মে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ হাইকোর্টে রিট করে। বুধবার এর শুনানি হয়।
আদালত অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে চট্টগ্রামে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক, চট্টগ্রামের ডিসি, রাঙ্গামাটির এসপি, ইউএনও, রাঙ্গামাটি সদর থানার ওসিকে রাঙ্গামাটি জেলায় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ কেউ যাতে পাহাড় কাটতে না পারে, সে বিষয়ে মনিটরিং টিম গঠন করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করে তিন মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন রিটকারীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
এর আগে শুনানিতে তিনি বলেন, পরিবেশ আইনের ৬ ধারায় পাহাড় কাটার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। এমনকি কেউ পাহাড় কাটলে তার বিরুদ্ধে ১৫ ধারায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার নির্দেশনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংস করছে। রাঙ্গামাটিতে প্রশাসনের সামনে এ কার্যক্রম চললেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।


