থানায় এনে স্বামী-স্ত্রীকে হেনস্তা এবং এক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের দায়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করা ওই তরুন-তরুণীকে ধরে আনার ঘটনা মীমাংসা করতে গিয়ে কোতোয়ালি থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দলের সদর উপজেলা সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পাঠানো প্রত্যাহার আদেশে ওসির বিরুদ্ধে আইন না মেনে একপক্ষ অবলম্বন ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ আনা হয়।
রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদের সই করা দুটি পৃথক পত্রে কোতয়ালী থানার ওসি আজাদ রহমানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। অন্য পুলিশ সদস্যরা হলেন, এসআই মাসুদ রানা, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা, কনেস্টবল লিমা সরেন ও বাসুদেব রায়। এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নরেশ চাকমাকে সভাপতি করে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ডিসি (ক্রাইম) মো. মাহফুজুর রহমান এবং এসি কোতয়ালী সুকুমার রায়।
ওসির প্রত্যাহার আদেশে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ জানান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলামের সাথে সংগঠিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সময় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ রহমান থানায় হাজির ছিলেন। তিনি হাজির থাকা সত্ত্বেও ঘটনা নিরসনে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রাপ্ত বয়স্ক স্বামী-স্ত্রীকে থানায় এনে আটক রেখে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন।
এ ছাড়াও জিডি তদন্তে আদালতের অনুমতি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করার বিধান থাকলেও এক্ষেত্রে ওই আইনের পুরোপুরি ব্যত্যয় ঘটেছে। তিনি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আইন ও নিয়মের মধ্যে থেকে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করে এক পক্ষ অবলম্বন করায় এবং অপেশাদার অসদাচরণ করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশের কর্মকান্ড সম্পর্কে জনগণের অনাস্থাসহ জনরোষ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সৃষ্ট জনরোষ কমাতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমানকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।
মারধরের শিকার রাকিবুল ইসলাম রাকিব সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব। তিনি এখন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঈদের আগে নগরীর সিও বাজার এলাকার এক তরুণ তরুণী প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। বুধবার রাত দশটায় তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। ওই তরুণের পক্ষের সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম কয়েকজন বিএনপি নেতা কর্মীসহ থানায় আসেন। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলে।
রাকিবুলের অভিযোগ, তিনি একবার থানা থেকে বের হয়ে পরে আবারও থানায় গিয়ে দেখতে পান পুলিশ ওই তরুণ-তরুণীকে মারধর করছে। নিজের দলীয় পরিচয় দিয়ে পুলিশকে মারধোর করতে বারণ করায় ওসিসহ অন্যান্য পুলিশসদস্যরা তাকে বেধড়ক মারধর করে। এতে তিনি রক্তাক্ত হন। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অন্যদিকে রাতে খবর শুনে থানায় যান মহানগর বিএনপির আহবায়ক সামসুজ্জামান সামু। তিনি লিখিতভাবে সমঝোতা করে ওই তরুন-তরুণীকে থানা হেফাজত থেকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।
তাৎক্ষণিকভাবে রাতে ওসি আজাদ রহমান জানান, ‘পুলিশ কোনো মারধর করেনি। থানায় ছেলে এবং মেয়ে পক্ষ বিবাদে জড়িয়ে পড়লে তাদের উত্তেজনা প্রশমিত করা হয়।’
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়ের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জাকারিয়া ইসলাম ও মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক জাহির আলম নয়ন।
তারা বলেন, ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের শুধু প্রত্যাহার করলেই হবে না। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে ঘেরাওসহ কঠোর আন্দোলন গেড়ে তোলা হবে।


