ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ (বের হওয়ার কৌশল) জানতে চেয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্য সারাহ এলফ্রেথ।
বিবিসির খবরে বলা হয়, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির সদস্য কংগ্রেসওম্যান সারাহ বলেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং এর পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কংগ্রেস ও জনগণের কাছে আরও স্পষ্ট তথ্য তুলে ধরা প্রয়োজন।
ওয়াশিংটনে বিবিসির প্রধান উপস্থাপক ক্যাট্রিওনা পেরিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ নিয়ে আমরা বেশ কয়েকটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের গোপন খবর পেয়েছি, কিন্তু কংগ্রেসের কারও সঙ্গে খোলামেলা কোনো আলোচনা হয়নি।’
‘ইরানের সঙ্গে ঠিক কি ঘটছে, এই শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ প্রভাব কি, ট্রাম্প ক্ষমতায় না থাকলে এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কীভাবে কাজ করবে, শান্তি আলোচনা ঘিরে কোন কৌশল এবং কোন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে তা মার্কিন জনগণের জানা অত্যন্ত জরুরি’, যোগ করেন সারাহ।
তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধে যাওয়ার আগেই এটি জানা উচিত ছিল। জনগণকে না জানিয়ে, স্পষ্ট বার্তা না দিয়েই ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা বলে এমন একটি দেশের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছেন যাদের সঙ্গে যুগ যুগ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক টানাপড়েন চলছে। এখন আমাদের জানতে হবে, এই যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার কৌশল কী। ট্রাম্প কি ভাবছেন তা অবশ্যই জনগণের জানা দরকার।’
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের পক্ষে কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা ভোট দেবেন কি না, তা নিয়েও দ্বিধার কথা জানান সারাহ। তিনি বলেন, ‘আমি মার্কিন সেনাদের আত্মত্যাগকে সম্মান ও সমর্থন জানাই। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা জীবন বাজি রেখে চলেছেন। কিন্তু আমাদের এটিও দেখতে হবে- ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন এড়িয়ে গেছেন। প্রতিনিধিরা টের পেলে হয়তো এই যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হতো। আমাদের সেনারা প্রাণ হারাতেন না।’
‘সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০২ সালে ইরাক যুদ্ধ শুরুর আগে কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন এবং কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়েছিলেন’ উল্লেখ করে এই কংগ্রেসওম্যান বলেন, ‘এটিই নিয়ম, এটিই সংবিধানিক আইন প্রয়োগের পথ। ট্রাম্প কারও ধার ধারেননি, যার ভুক্তভোগী হচ্ছে গোটা বিশ্ব।’
সারাহ অভিযোগ করে বলেন, ‘এই পরিকল্পনায় কংগ্রেসকে যুক্ত করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে কোনো চেষ্টা দেখিনি। যুদ্ধ শুরুর পরও তিনি একাধিকবার তা বন্ধ করতে পারতেন, তার কাছে সে সুযোগ ছিল। তিনি এই যুদ্ধ কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘায়িত করে গেছেন। আমার রিপাবলিকান শিবিরের সহকর্মীরা এই প্রেসিডেন্টের ওপর প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য আরোপ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন, এটি অত্যন্ত হতাশাজনক।’


