যশোরে চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছন থেকে মাথায় গুলি করে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে হত্যার ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় শহরের শংকরপুর ইসহাক সড়কে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে ওই দুইজনকে হেফাজতে নেয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
নিহত আলমগীর হোসেন যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আটককৃতরা হলেন নিহত আলমগীর হোসেনের জামাই বাসিত আলী পরশ (২৯) ও বিএনপি নেতা আসাবুল ইসলাম সাগর (৫০)।
নিহতের স্ত্রী শামিমা বেগম বলেন, ‘আমার জামাই অনেক লোভি। দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমির জন্য আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন করছিল সে। সেই লোক ভাড়া করে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। আমি খুনির সর্বোচ্চ বিচার চাই।’
মেয়ে এলেরা খাতুন জানান, তার স্বামী বিয়ের পর থেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। পরশের নামে সব জমিজায়গা লিখে দিতে হবে, না হলে তার বাবাকে খুন করবে বলেও হুমকি দিতেন তিনি। কিছুদিন আগে তিনি বলেছিলেন একটি পিস্তল কিনেছের, আমার শত্রুকে শায়েস্তা করার জন্য। তুমি সময় হলে দেখতে পারবে।
‘আমার বাবাকে যে বা যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। যদি আমার স্বামী অপরাধী হয় তারও ফাঁসি চাই’, যোগ করেন এলেরা খাতুন।
আটক পরশের বাবা ও নগর বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট জুলফিকার আলী জুলু জানান, তার একমাত্র ছেলের সঙ্গে গত ১০ বছর আগে আলমগীর হোসেনের মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সংসারে অশান্তি লেগে থাকত। এ নিয়ে কয়েক দফা সালিশও করা হয়েছে। তবে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যদি সে জড়িত থাকে তা প্রমাণ হয় তাহলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে জামাই পরশ ভাড়াটে খুনি দিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যা পরিকল্পনায় অংশ নেন বিএনপি নেতা সাগর।
পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় শুটারসহ অন্য সহযোগীদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, হত্যার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে করে আলমগীর হোসেন যাচ্ছিলেন। পেছন দিক থেকে আরেকটি মোটরসাইকেলে করে দুইজন এসে আলমগীর হোসেনের মাথায় গুলি করে চলে যান।


