মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা

মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা
আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা হোসাইনি খামেনি | ছবি: আল জাজিরা
Advertisement
Advertisement

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা হোসাইনি খামেনিকে নির্বাচন করা হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে রোববার দেশটির ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) তাকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা দেয়।

একই দিন তেহরান সময় মধ্যরাতের ঠিক পরেই এক বিবৃতিতে নতুন নেতা নির্বাচনের ঘোষণা দেয় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞ পরিষদ।

বিবৃতিতে বলা হয়, নির্ধারণমূলক ভোটের মাধ্যমে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি দেশটির ৪৭ বছরের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হলেন।

নতুন দায়িত্বে ইরানের রাষ্ট্রীয় সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পেয়েছেন মোজতবা। যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানোর মধ্যেই দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হলো।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ খবর দিয়েছে রয়টার্স, আল জাজিরা ও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

মোজতবা খামেনি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দ্বিতীয় ছেলে। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে বাবার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। খামেনি অনুসারীদের মতে, তাকে সেভাবেই প্রস্তুত করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

তবে সমালোচকদের দাবি, বড় মাপের আলেম না হয়েও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার পদে তার আরোহনের পেছনে দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী  ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাহিনীটির ভেতরেও তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য হায়দারি আলে কাসির বলেন, ‘প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার আগে দেওয়া পরামর্শের ভিত্তিতেই এই প্রার্থীকে বেছে নেওয়া হয়েছে। খামেনির সেই পরামর্শ ছিল–ইরানের শীর্ষ নেতাকে শত্রুর কাছে প্রশংসিত হওয়ার বদলে তাদের কাছে “ঘৃণিত” হতে হবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা তার “অনুমোদন” ছাড়া বেশি দিন টিকতে পারবেন না।’

এদিকে নতুন নেতা ঘোষণার আগেই ইসরায়েল হুমকি দিয়ে বলেছে, যাকেই নির্বাচিত করা হোক না কেন তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

সপ্তাহ খানেক আগে শনিবার যুদ্ধের প্রথম দিন ইরানে হামলার শুরুতেই নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ওই হামলায় খামেনির স্ত্রী, মোজতবার স্ত্রী এবং এক বোনও নিহত হন।

ঘটনাস্থলে সে সময় মোজতবা উপস্থিত না থাকায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

দীর্ঘদিন ধরেই লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা মোজতবা খুব কমই জনসমক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি কখনো সরকারি কোনো দায়িত্বেও ছিলেন না। তবে ইরানের জটিল ধর্মতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতরে তার প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad