রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পুতিনের উদ্দেশে লেখা এক খোলা চিঠিতে তিনি এই আহ্বান জানান।
বিবিসির খবরে বলা হয়, চিঠিতে জেলেনস্কি বলেছেন, ইউরোপের যুদ্ধ আবারও যুক্তরাষ্ট্রের মূল মনোযোগের কেন্দ্রে ফিরে আসার অপেক্ষায় বসে থাকা ঠিক হবে না। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী শান্তির পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। প্রস্তাবিত আলোচনার পুরো সময় জুড়ে পূর্ণ যুদ্ধবিরতিরও আহ্বান জানান তিনি।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধবন্ধের চেষ্টায় অন্যতম মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই নেতার সম্ভাব্য বৈঠককে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘তারা (পুতিন-জেলেনস্কি) মুখোমুখি হলে সেটি ইতিবাচক হবে এবং দ্রুত সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে।’
তবে চিঠি পাওয়ার দিনই পুতিন এমন যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।
ক্রেমলিন এর আগে জানায়, তারা জেলেনস্কির চিঠি পেয়েছে এবং বিষয়টি প্রেসিডেন্ট পুতিনকে জানানো হবে।
কিয়েভের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় এক হাজার ৮০০ শব্দের চিঠিতে জেলেনস্কি যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে বলেন, ‘ইউক্রেন প্রতিদিন মূল্যবান মানুষ হারাচ্ছে এবং প্রতিটি মৃত্যু দেশের জন্য বেদনাদায়ক।’ তিনি দাবি করেন, যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়িত্বে রাশিয়ার জনগণও ক্লান্ত হয়ে পড়ছে এবং দেশটিতে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ তৈরি হয়েছে।
চিঠিতে জেলেনস্কি সুইজারল্যান্ড বা তুরস্কের মতো নিরপেক্ষ দেশে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দেন। তিনি পুতিনকে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শান্তির পথে এগিয়ে আসা।’
অন্যদিকে সেন্ট পিটার্সবার্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন বলেন, ‘তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে কোনো চুক্তির জন্য উভয় পক্ষকেই আপস করতে হবে।’
একই সঙ্গে ইউক্রেনকে রাশিয়া অধিকৃত চারটি অঞ্চল—দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়াকে ঘিরে বাস্তবতা মেনে নিতে (এই অঞ্চলগুলো রাশিয়ার দখলে রয়েছে) এবং ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার প্রচেষ্টা বন্ধ করার শর্ত পুনর্ব্যক্ত করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
পুতিন এ সময় প্রেসিডেন্ট হিসেবে জেলেনস্কির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে সামরিক আইন জারির কারণে ২০২৪ সালের পর থেকে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।
অবশ্য ইউক্রেন বরাবরই সীমান্ত অঞ্চল রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ভূখণ্ড ছেড়ে দিলে ভবিষ্যতে রাশিয়ার আরও আগ্রাসনের ঝুঁকি তৈরি হবে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের যুদ্ধবিরতি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে। জেনেভা, আবুধাবি ও ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আগের শান্তি উদ্যোগগুলোও কোনো চূড়ান্ত সমাধান এনে দিতে পারেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনও বড় ধরনের দূরত্ব থাকলেও জেলেনস্কির নতুন উদ্যোগ যুদ্ধ অবসানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


