কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে আরও দুই কিশোর আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালীস্থল এলাকায় কেউড়া বাগানে এই ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ কিশোররা হলো হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কানজর পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সোহেল (১৩) ও মো. ওবাইদ উল্লাহ (১৫)। তারা দুজনেই বাংলাদেশি নাগরিক।
ধারণা করা হচ্ছে, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্তে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির জেরে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও আহতদের পরিবার জানায়, সকালে ইউনিয়নের ঝিমংখালীস্থল এলাকায় কেউড়া বাগানে লাকড়ি কুড়াতে যায় তারা। এ সময় হঠাৎ মিয়ানমারের ভেতরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেখান থেকে গুলি এসে ওই দুই কিশোরের শরীরে লাগে। পরে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা দুজনই উখিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গুলিবিদ্ধ সোহেলের মামা মো. ইসমাইল বলেন, গুলিবিদ্ধ দুইজনই আমার আত্মীয়। সকালে কেউড়া বাগানে লাকড়ি কুড়াতে গিয়ে মিয়ানমারের ছোঁড়া একাধিক গুলিতে তারা আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে উখিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তিনি জানান, একজনের পা, বুকে এবং অন্যজনের বুকে গুলি লাগে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চট্টগ্রামে রেফার করা হয়। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী বাসিন্দারা ভয়ভীতির মধ্য রয়েছে।
বিজিবির ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমারের ভেতরে সকালে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। কিন্তু এ দুজন মিয়ানমারের সীমানায় গিয়ে আহত হয়েছে। তবুও বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছি। সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের মিডিয়া ফোকাল ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস বলেন, সীমান্তে দুই কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তবে তারা এখন নিরাপদ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে হুজাইফা আফনান নামে এক বাংলাদেশি শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। এর পরের দিনও একই এলাকায় সীমান্তে স্থলমাইন বিষ্ফোরণে আবু হানিফ নামে এক জেলের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসব নিয়ে সীমান্তে বসবাসকারীরা আতঙ্কে দিন পার করছে।


