মিয়ানমারে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের উৎসব চলাকালে প্যারাগ্লাইডার থেকে ছোড়া বোমার আঘাতে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৭ জন।
দেশটির নির্বাসিত সরকারের মুখপাত্রের বরাতে বিবিসি জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় সরকারি ছুটি উপলক্ষে চাউং ইউ শহরতলিতে জান্তা সরকারের (সামরিক শাসন) বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেন স্থানীয়রা। এতে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। ওই সমাবেশেই হামলা চালায় মোটর চালিত প্যারাগ্লাইডারের আরোহীরা।
স্থানীয়রা বিবিসিকে জানান, হামলায় নিহতদের মরদেহ চেনা যাচ্ছিল না। আয়োজক এক নারী বার্তা সংস্থা এএফপি’কে জানান ‘বোমার আঘাতে সমাবেশ স্থলের আশেপাশে থাকা শিশুরাও ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে।’
সাগাইং অঞ্চলের ওই এলাকাটি মিয়ানমারের একটি প্রধান যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় মিলিশিয়া বাহিনী পিপল’স ডিফেন্স গ্রুপ (পিডিএফ) এলাকাটির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসন পরিচালনা করছে।
পিডিএফ-এর এক কর্মকর্তা জানান, তারা আগে থেকেই আকাশপথে হামলার সম্ভাবনার তথ্য পেয়েছিলেন। তা আমলে নিয়ে সমাবেশটি দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছিল। কিন্তু প্যারামোটর চালিত বোমা হামলাকারীরা তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।
তিনি বলেন, ‘সবকিছু মাত্র সাত মিনিটের ভেতর ঘটে যায়। বিস্ফোরণে আমার পায়ে গুরুতর আঘাত পাই। আমার আশেপাশে থাকা অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন।’
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই হামলার ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানায় মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এতে বলা হয়, ‘ওই হামলা মিয়ানমারে প্যারামোটর ব্যবহারের “একটি উদ্বেগজনক প্রবণতার” অংশ। বিমান ও হেলিকপ্টারের ঘাটতির কারণে সেনাবাহিনী এখন প্যারামোটর বেছে নিচ্ছে।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মিয়ানমার গবেষক জো ফ্রিম্যান বলেন, ‘এই হামলা একটি নির্মম সতর্কবার্তা যে মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের এখনই জরুরি সুরক্ষার প্রয়োজন।’
২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের শাসন নেয় সেনাবাহিনী। এরপর থেকেই মিলিশিয়া, সশস্ত্র গোষ্ঠী ও প্রতিরোধ বাহিনীর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ায় জান্তা সরকার।


