প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বিকাল ৩টার দিকে তাকে বহকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান।
এ ছাড়া সফরসঙ্গী হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলামসহ ২৩ প্রতিনিধি।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, মালয়েশিয়া ও চীন রাষ্ট্রদূতসহ ঊধর্তন সরকারি কর্মকর্তারা।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে ২১ ও ২২জুন মালয়েশিয়া সফর শেষে ২৩-২৬ জুন চীন সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সফরকে কুয়ালালামপুর ও বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়া সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, স্বাধীনতার পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়াই প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। ঢাকা আশা করছে, এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাস ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।
এ সফরে মূলত জনশক্তি রপ্তানি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, কৃষি এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হবে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসেরর জন্য মালয়েশিয়া ও আসিয়ান জোটের দেশগুলো যেন আরও জোরালো ভূমিকা নেয়, সেই অনুরোধ জানাবে বাংলাদেশ।
এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের সাধারণ ও দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও বেশ গুরুত্ব পাবে। সফরে তিনটি সমঝোতা স্মারক সই এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে একটি চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। চীন সফরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে তারেক রহমান মালয়েশিয়ার এমএমসি পোর্ট, এয়ারএশিয়া ও পেট্রোনাসের মতো কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির চেয়ারম্যানদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।


