কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের বাহারছড়ায় কোস্ট গার্ড ও র্যাবের যৌথ অভিযানে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে বন্দী করে রাখা নারী-শিশুসহ ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের জন্য জড়ো করা হয়েছিল।
রোববার দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাব্বির আলম সুজন জানান, সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে আটক রাখা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালি জুম্মাপাড়া এলাকার কুখ্যাত মানবপাচারকারি মো. আব্দুল আলী এলজিইডি রোডসংলগ্ন একটি পেঁপে বাগানে তাদের আটকে রাখেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে রোববার মধ্যরাত ২টার দিকে কোস্ট গার্ডের বাহারছড়া আউটপোস্ট ও র্যাব যৌথভাবে ওই এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযানকালে বাগানে তল্লাশি চালিয়ে পাচারের জন্য বন্দী থাকা নারী-শিশুসহ ৩২ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় যৌথবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
কোস্ট গার্ডের তথ্য মতে, উদ্ধারকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কয়েকটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র বিদেশে উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং অল্প খরচে বিদেশ যাত্রার প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে সাগরপথে পাচারের পরিকল্পনা করছিল।
উদ্ধার করা ভুক্তভোগীদের পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা সাব্বির সুজন।
তিনি জানান, মানবপাচার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


