বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার মৃত্যু হয়। নিহত আক্তার হোসেনের গ্রামের বাড়ি মাগুরা জেলায়। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এস এম খায়রুল আলম বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের সময় সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে আক্তার গুরুতর আহত হন। আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়েছি, কিন্তু তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।’
গত ১২ অক্টোবর সকালে ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি সীমান্তে টহলের সময় বিস্ফোরণে তার ডান পা উড়ে যায় এবং বাম পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে রামু সেনানিবাস থেকে হেলিকপ্টারে করে সিএমএইচে পাঠানো হয়।
টানা ২০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর এদিন সকালে তিনি মারা যান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সংক্রমণ ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়েও তাকে বাঁচানো যায়নি।
বিজিবি জানিয়েছে, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা এই সদস্যকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মিয়ানমারের সেনা ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে থাকা পুরোনো মাইনগুলো এখন ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বিজিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে ১৮ জন আহত হয়েছেন। অক্টোবর মাসে পোয়মুহুরী সীমান্তে মিয়ানমারের এক নাগরিক নিহত হন এবং এক বাংলাদেশি ম্রো আহত হন।


