জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ অপরিবর্তিত রেখে সংসদে পাস করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সোমবার দুপুরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সম্মেলনকক্ষে নাগরিক সমাজের সঙ্গে নবনিযুক্ত কমিশনারদের মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, নতুন অধ্যাদেশ কমিশনকে মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ কমিশনকে মানবাধিকার সুরক্ষায় পর্যাপ্ত এখতিয়ার দিয়েছে, তাই এটি অপরিবর্তিত রেখেই আইনে পরিণত হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, বর্তমান কমিশনের ওপর নাগরিক সমাজের আস্থা রয়েছে এবং নারী, সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় কমিশনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, কমিশনের বর্তমান সদস্যদের সঙ্গে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তাদের ব্যক্তিগত সততা ও সক্ষমতার ওপর আস্থা আছে।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ হুবহু আইনে পরিণত হওয়া উচিত। কোনো ত্রুটি থাকলে পরে সংশোধন করা সম্ভব।’
নিজেরা করি সমন্বয়ক খুশী কবির বলেন, নাগরিক সংগঠনগুলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চায় এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে কমিশনের মর্যাদা ‘বি’ স্ট্যাটাস থেকে ‘এ’ স্ট্যাটাসে উন্নীত করতে সহযোগিতা করবে।
তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের মানবাধিকার কমিশন এখনও ‘বি’ স্ট্যাটাসে রয়েছে, যা উন্নীত হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।
অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, অধ্যাদেশে কিছু ত্রুটি থাকলেও সেটি অবিকৃতভাবে সংসদে পাস হওয়া প্রয়োজন।
সভায় কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আইন যতটুকু অনুমতি দেবে কমিশন ততটুকু আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সাহসের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
তিনি বলেন, একটি কার্যকর, স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য মানবাধিকার কমিশন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং রাষ্ট্র ও নাগরিকের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত।
মতবিনিময় সভায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন কমিশনার নাবিলা ইদ্রিস।
এ সময় কমিশনার মো. নূর খান, মো. শরীফুল ইসলাম এবং ইলিরা দেওয়ান উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক উদ্যোগ প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, আদিবাসী অধিকারকর্মী দিপায়ন খীসা, আইন ও সালিশ কেন্দ্র উপদেষ্টা মাবরুক মোহাম্মদ, কাপেং ফাউন্ডেশন প্রতিনিধি ফাল্গুনী ত্রিপুরা, এএলআরডি কর্মসূচি ব্যবস্থাপক অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ সিরাজী এবং স্বদেশ নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত।


