জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকটে ভুগছে মাগুরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)। একারণে অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পূর্ণগতিতে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
২০১৫ সালে শহরের ইটখোলা বাজার এলাকায় স্থাপিত এই প্রতিষ্ঠানটি দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু করে। এখানে ছয়টি ট্রেডে প্রতি তিন মাস অন্তর মোট ১৪৪ জন শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এসব ট্রেডের মধ্যে রয়েছে মেশিন শপ প্র্যাকটিস, অটোমোবাইল, ড্রাইভিং, কম্পিউটার অপারেশন, গার্মেন্টস টেইলরিং এবং মোবাইল ফোন সার্ভিসিং।
এখান থেকে কোর্স শেষ করে অনেক শিক্ষার্থী দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। বিশেষ করে বিদেশে যেতে ইচ্ছুক তরুণদের জন্য এই কেন্দ্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখানে জাপানি ভাষা শিক্ষা কোর্সে প্রতি ব্যাচে ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। এই কোর্স সম্পন্ন করে অনেক তরুণ উন্নত জীবনের আশায় জাপানে পাড়ি জমাচ্ছেন।
তবে এসব সম্ভাবনার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের অভাব। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় জনশক্তির মাত্র অর্ধেক নিয়ে কোনোমতে কাজ চালাচ্ছে। এর ফলে প্রশিক্ষণের গুণগত মান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
প্রশিক্ষণের কাঠামো নিয়েও শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। প্রতিটি কোর্সে মাত্র একজন করে প্রশিক্ষক থাকায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তৈয়বা এশা ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ নামের দুই শিক্ষার্থী জানান, একজন প্রশিক্ষকের পক্ষে টানা পাঁচ ঘণ্টা একই বিষয়ে ক্লাস নেওয়া মোটেও বাস্তবসম্মত নয়। এর ফলে ক্লাসের কার্যকারিতা কমে যায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে একঘেয়েমি তৈরি হয়। তারা কোর্সের মেয়াদ তিন মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করার দাবি জানান। একইসঙ্গে দ্রুত নতুন প্রশিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তারা জোর দেন।
প্রশিক্ষক রুবেল হোসেন মনে করেন, বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য এই কেন্দ্রটি বড় ভূমিকা পালন করছে। তার মতে, প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশে গেলে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। অন্যদিকে অসচেতনতা ও প্রশিক্ষণের অভাবে অনেকে বিদেশে গিয়ে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ কাজী সিরাজউদ্দোহা বলেন, অনেক বাংলাদেশি এখনও অদক্ষ কর্মী হিসেবে বিদেশে যাচ্ছেন। অথচ এখান থেকে প্রশিক্ষণ ও সনদ নিয়ে গেলে তারা অনেক বেশি আয় করতে পারতেন।
অধ্যক্ষ জানান, খুব দ্রুত এখানে গ্রাফিক্স ডিজাইন, আইটি, বিউটিফিকেশন এবং সেলাই মেশিন অপারেশনের মতো নতুন কোর্স চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিদেশগামী কর্মীদের জন্য এখানে তিন দিনের বিশেষ ওরিয়েন্টেশন কোর্স করানো হয়। এতে তারা বিমানবন্দর ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পারেন। তবে প্রচারের অভাবে অনেকেই এই সুবিধার কথা জানতে পারছেন না।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, পর্যাপ্ত জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম পেলে মাগুরা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার এই অঞ্চলের প্রধান দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রে পরিণত হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও সহায়তা পেলে দেশের শ্রমশক্তিকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করতে বড় অবদান রাখতে পারবে এই কেন্দ্র।


