মাগুরায় ৬২১ মন্দিরে হবে দুর্গাপূজা,  চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি

মাগুরায় ৬২১ মন্দিরে হবে দুর্গাপূজা,  চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি
পূজা মণ্ডপগুলোতে শেষ মুহূর্তে চলছে রঙ-তুলির কাজ । ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ঢাকের আওয়াজ আর ঘন্টাধ্বনির মাঝে শরতের আগমনে পৃথিবীতে আসছেন মা দুর্গা।  অসুরের বিনাশে তার আগমনী বার্তায় এরই মধ্যেই সাজ সাজ রব উঠেছে প্রকৃতিতে। বছর ঘুরে মা আসছেন ধরাধামে। বাঙালি সনাতন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সমাগত। তাই এবার জেলার চার উপজেলায় ৬২১টি মন্দিরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পূজা।

২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শুরু হবে এবারের উৎসব। পরে, ২ অক্টোবর দশমী বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী এ সার্বজনীন আয়োজন। তাই মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা তৈরির শেষমুহূর্তের কাজ চলছে পুরোদমে। প্রতিমা তৈরির সরঞ্জাম ও শিল্পীদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির কারণে কিছুটা বিপাক থাকলেও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রাখতে উৎসাহ-উদ্দীপনায় চলছে পূজার আয়োজন।

মাগুরা শহরতলীর বৈদ্য বাড়ি এলাকায় হাদান বৈদ্যর কুমোড় বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বেশ কয়েকটি প্রতিমার কাজ শেষপর্যায়ে। রঙের কাজ সম্পন্ন করার পর এখন চলছে সাজসজ্জার প্রস্তুতি।

সেখানে প্রতিমা দেখতে এসে অন্তরা, বিকাশ, মধুসহ একাধিক শিশু জানায়, তাদের পূজোর কেনাকাটা প্রায় শেষেরপর্যায়ে। বাড়ির পাশের কুমোর বাড়িতে প্রতিমায় রঙ করেছে। তাই আগেভাগে পূজো দেখতে এসেছেন তারা। প্রতিমাশিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় রঙ আর তুলিতে দেবী দুর্গা ও তার সন্তানেরা প্রাণ পেতে চলেছে।

প্রতিম শিল্পী সুকান্ত অধিকারী জানান, এ বছর আগের চেয়ে খড়, বাঁশ, রঙসহ আনুসাঙ্গিক জিনিসের দাম অনেক বেড়েছে। শিল্পীদের মজুরি কিছুটা বাড়লেও বাজারে পণ্যের দামবৃদ্ধির তুলনায় তা অনেকটাই কম। তারপরও আনন্দ নিয়েই প্রতিমা গড়ছেন তারা। তবে প্রতিমা তৈরির এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তার দাবি করেছেন মৃৎশিল্পীরা।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে, প্রতিমা তৈরি ও আনুষাঙ্গিক খরচ বাড়লেও ঐতিহ্য ধরে রাখতে পিছিয়ে নেই উদ্যোক্তারা।

শহরের ছানা বাবুর বটতলা পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তুষার কুমার সাহা জানান, মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি, সজ্জার সঙ্গে নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা রয়েছে।

সনাতন সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হওয়ায় খরচ বাড়লেও ঐতিহ্য আর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ধরে রাখতে সুন্দরভাবে পূজার আয়োজন করছেন বলে জানান নান্দুয়ালী শ্রী শ্রী নিতাই গৌর গোপাল সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ চিন্ময়ানন্দ মহারাজ।

মাগুরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ অহিদুল ইসলাম জানান, দুর্গাপূজা চলাকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে গত বছরের মতোই এ বছরও প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলাবাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সার্বিক পরিস্থিতি সমন্বয়ে একাধিক সভা করে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। প্রতিটি মন্দিরকে গুগল ম্যাপিং এর আওতায় এনে ২৪ ঘন্টা নিরাপত্তা নিশ্চিতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের প্রস্তুতিতে মেতে উঠেছেন মাগুরাবাসী। প্রতিটি পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা ও ভ্রাম্যমাণ টিমও কাজ করবে। এছাড়া সেনাবাহিনীর মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত সদস্যরাও থাকবেন নিয়মিত টহলে। সরকারের তরফ থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপে নির্দিষ্ট পরিমাণে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে, গত বছর ৫৪৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় এবার মণ্ডপ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২১টিতে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad