‘মাইলস্টোন ট্রাজেডি মামলার আবেদনকারী কুকি-চিন এজেন্ট’

‘মাইলস্টোন ট্রাজেডি মামলার আবেদনকারী কুকি-চিন এজেন্ট’
Advertisement
Advertisement

ঢাকার উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় অবহেলার অভিযোগ তুলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার আবেদনকারী উসাইমং মারমাকে কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) এজেন্ট বলে দাবি করেছে এক্স-ফোর্সেস এসোসিয়েশন।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা, মনোবল ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এক্স-ফোর্সেস এসোসিয়েশন’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট সাইফুল্লাহ খান সাইফ।

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় মামলার আবেদন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামলাটা কত মাস পরে করা হয়েছে? মামলা করেছে কে? আপনি (সাংবাদিক) তার নাম জানেন?’

সাইফুল্লাহ মামলার আবেদনকারী উসাইমং মারমার নাম উল্লেখ করে তার বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে সাংবাদিককে অনুরোধ জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘কিছুদিন আগেও সন্তু লারমার স্ত্রী কানাডায় একটা কনফারেন্স করেছে। ওইখানে তিনি পাহাড়ে সশস্ত্র বাহিনীর কার্যকলাপ নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন। মামলার আবেদনকারী কুকি-চিনের এজেন্ট। আমি শুধু এতটুকু ক্লু দিলাম।’

কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) হলো পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় একটি নিষিদ্ধ জাতিগত সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী সংগঠন। কুকি-চিন পার্বত্য চট্টগ্রামে জামায়াতুল ইসলামী আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বিয়াকে প্রশিক্ষণ দেয়। ২০২৩ সালের ১১ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও জেলার নিরাপত্তা বাহিনী কেএনএফ-এর বিরুদ্ধে অভিযানের কারণে জেলার পর্যটকদের নিষিদ্ধ করেছিল। কুকি-চিনের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন অনেকে।

আরও পড়ুন

গত ৭ মে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত।

বিমানবাহিনীর সঙ্গে ‘চরমপন্থাকে’ জড়ানো এই ষড়যন্ত্রের অংশ বলে উল্লেখ করেন সাইফুল্লাহ খান।

বিমানবাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে উগ্রপন্থার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে কিছুদিন আগে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাহলে সেই প্রতিবেদনগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন জানতে চাইলে সাইফুল্লাহ খান বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর বিষয়ে তথ্য ও খবর দিয়ে থাকে আতঃবাহিনী সংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। যেহেতু এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকে কোনো বক্তব্য আসেনি তাই বিষয়টাকে ‘গুজব’ বলে ধরে নেওয়া যায়।

সম্প্রতি প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘ভুইফোঁড় সংবাদ মাধ্যমে’ অসত্য প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছে অভিযোগ করে এসবেরও প্রতিবাদ জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। সরকারের কাছে এসব মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর বিষয় প্রতিকার চাওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশ যখন তার জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ ভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতিকে আরও সুদৃঢ় করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও সক্ষম বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, ঠিক সেই সময় ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য, অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম, ফাইটার প্লেন ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জনের উদ্যোগ সামনে আসার পর থেকেই একটি গোষ্ঠী বাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিমানবাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন, বিমানবাহিনীর সঙ্গে চরমপন্থার মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে জড়ানোর অপচেষ্টা এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টির চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।

একইভাবে প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও এক্স-ফোর্সেস এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শামসুল ইসলাম সম্পর্কেও ভুঁইফোড় অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা কেবল ব্যক্তি নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এক্স-ফোর্সেস এসোসিয়েশন এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইনে অতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, এক্স-ফোর্সেস এসোসিয়েশন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে- বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী এ দেশের মানুষের আস্থা, ভালোবাসা ও গর্বের প্রতীক। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা থেকে শুরু করে দুর্যোগ মোকাবিলা, জাতীয় সংকট কিংবা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সশস্ত্র বাহিনী সবসময় সাহস, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিশেষত ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মতো জাতীয় পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে থেকে দায়িত্বশীল ও সংযত ভূমিকা পালন করে সশস্ত্র বাহিনী আবারও প্রমাণ করেছে যে, তারা কেবল একটি প্রতিরক্ষা বাহিনী নয়- বরং জাতির আস্থা ও স্থিতিশীলতার শেষ ভরসা।

লিখিত বক্তব্যে এক্স-ফোর্সেস এসোসিয়েশন দেশবাসীকে গুজব ও বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় সচেতন থাকা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানায়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad