ময়মনসিংহ বিভাগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে শেরপুর জেলার একটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন কমিশন ভোট স্থগিত করেছে।
বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই ভোটাররা কেন্দ্রে এসে বুথের সামনে লাইনে দাঁড়ান। সকাল সাড়ে সাতটায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। টানা ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।
দীর্ঘদিন পর অংশগ্রহণমূলক এ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী-পুরুষ ভোটারের লাইন দীর্ঘ হচ্ছে। নতুন ভোটারদের উপস্থিতিও সবার নজর কাড়ছে। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো ধরনের গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি।
এবারের নির্বাচনে ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন ময়মনসিংহ জেলায় ১১টি এবং সবচেয়ে কম শেরপুর জেলা তিনটি। ময়মনসিংহ জেলায় সিটি করপোরেশন, ১০টি পৌরসভা, ১৩টি উপজেলা ও ১৪ টি থানা নিয়ে গঠিত ১১টি সংসদীয় আসন, নেত্রকোনা জেলায় ১০টি উপজেলা ও ৫টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ৫টি সংসদীয় আসন, জামালপুর জেলায় ৮টি পৌরসভা ও সাতটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ৫টি সংসদীয় আসন এবং শেরপুর জেলায় ৫টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ৩টি সংসদীয় আসন রয়েছে।
ময়মনসিংহের ১১টি সংসদীয় আসনে ৬৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে ১,৩৬৫টি ভোট কেন্দ্রে ৪৭ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন ভোটার ভোট দিবেন। এরমধ্যে পুরুষ ২৪ লাখ ৬ হাজার ৮৯২ জন ও নারী ২৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৬৬ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪১জন। নেত্রকোনার ৫টি সংসদীয় আসনে ৩১ জন প্রার্থী রয়েছেন। ৬৭৬ টি কেন্দ্রে ২০ লাখ ৪৪ হাজার ৭৩৬ জন ভোটার ভোট দিবেন।
এরমধ্যে পুরুষ ১০ লাখ ৩৭ হাজার ২২৫জন ও নারী ১০ লাখ ৭ হাজার ৪৭১ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪০ জন। জামালপুরের ৫টি আসনে ৩৪ জন প্রার্থী রয়েছেন। ৬২৩ টি ভোট কেন্দ্রে ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭ জন ও নারী ভোটার ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২৬ জন। শেরপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুর পর একটি আসনের নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। দু’টি আসনের ৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। ২৯৯টি কেন্দ্রে ভোট দিবেন ৮ লাখ ৯০ হাজার ৫২৪ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ২৪৮ জন ও নারী ভোটার ৪ লাখ ৫০ হাজার ২৫৮ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন।
ময়মনসিংহ বিভাগের একাধিক আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে।
স্বাধীনতার পর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন ছাড়া অধিকাংশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী ছিল মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। বিশেষ করে ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বিএনপি ও আওয়ামী লীগই ছিল প্রধান প্রতিপক্ষ।
৫ আগস্টের পর বিভাগে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এবারের নির্বাচনে জামায়াতের অবস্থান বিএনপির সঙ্গে প্রায় সমানে সমান বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত কয়েকদিন রাজধানী থেকে ফেরত আসা ভোটারদের মুখে মুখে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের স্লোগান মাঠপর্যায়ে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ জেলায় ১১ আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ ১৫টি দলের ৬৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৮টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা দলীয় প্রার্থীদের চাপে ফেলেছেন। কয়েকটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জামায়াতের সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
নেত্রকোনা জেলায় ৫ আসনে ১০টি দলের ৩১ জন প্রার্থী। অধিকাংশ আসনে বিএনপির অবস্থান শক্তিশালী হলেও একটি আসনে জামায়াতে ইসলামী শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী।
জামালপুর জেলায় ৫ আসনে ৭টি দলের ৩৪ জন প্রার্থী। তিনটি আসনে বিএনপির এগিয়ে থাকার আভাস মিললেও দুটি আসনে জামায়াতের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।
শেরপুর জেলায় দুই আসনে ৬ জন প্রার্থী। এখানে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী। স্থানীয়দের মতে, ফলাফল অনেকটাই ‘ফিফটি-ফিফটি’। আওয়ামী লীগের ভোটাররাই বিজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
শেরপুরের এক আসনে নালিতাবাড়ী উপজেলার প্রার্থী মু. গোলাম কিবরিয়া (জামায়াত) ও নকলা উপজেলার বাসিন্দা বিএনপির ফাহিম চৌধুরীর লড়াই আলোচনায় রয়েছে। নালিতাবাড়ীতে ভোটার সংখ্যা নকলার চেয়ে বেশি হওয়ায় আঞ্চলিক সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিটি আসনে চার স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৪ জন অস্ত্রধারী পুলিশ ও ১২ থেকে ১৬ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিটি আসনে ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য রাখা হয়েছে। এছাড়া ১২০ থেকে ১৪০ সদস্যের টহল টিম, ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিজিবি ও সেনাবাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং র্যাবের সদস্যরা পোশাকে ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন।


