লক্ষ্মীপুরে ভোটের ছয়টি সিল উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
লক্ষ্মীপুর শহরের জেলা বিএনপির নির্বাচনি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি অভিযোগ করেন, ভোটের সিল তৈরির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি জামায়াতের কর্মী এবং তার সাংগঠনিক পদ-পদবী থাকতে পারে। তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং এটি সুপরিকল্পিত ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অংশ, যা আসন্ন নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’
এ্যানি আরও দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অবৈধ সিল ও ব্যালট তৈরির অপচেষ্টা চলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে অবিলম্বে নিরপেক্ষ প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ, নির্বাচনকালীন প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং সিল তৈরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, একই দিন রাত ১০টায় লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর সেক্রেটারি ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম বিএনপির অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘ভোটের সিল উদ্ধারের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী বা তাদের কোনো নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততা নেই।’ বিএনপির এমন বক্তব্য প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রেজাউল করিম আরও বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে। তিনি ভোটের সিল উদ্ধারের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান এবং নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে—এমন সব অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানান।


