মে মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়লেও তা এখনও ৫ শতাংশের নিচেই রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও ব্যবসায় ঋণ বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানামুখী উদ্যোগ সত্ত্বেও ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে মন্দা ভাব কাটেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশে, যা এপ্রিলে ছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। গত ২২ মাসের মধ্যে এপ্রিলেই ঋণ প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে কম ছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে সংসদীয় নির্বাচনের পর মার্চ মাসে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমেছিল। তবে পরবর্তী দুই মাসে তা সামান্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
মে মাস শেষে বেসরকারি খাতে মোট ঋণের পরিমাণ (আউটস্ট্যান্ডিং ক্রেডিট) দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৭ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। ফলে বছরের ব্যবধানে এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের সর্বশেষ মুদ্রানীতিতেও বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ বাড়াতে বেশ কিছু উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছে।
এর মধ্যে রয়েছে, ঋণ নেওয়ার খরচ কমাতে আমানত ও ঋণের সুদের হারের ব্যবধান (স্প্রেড) কমিয়ে আনা, বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ, ঋণ পুনঃতফশিলীকরণের ডাউন পেমেন্টের হার কমিয়ে ১ শতাংশ করা এবং সুদের ওপর ছাড় ও দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ (কিস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে রেয়াত সময়) এককালীন এক্সিট (বিদায়) সুবিধা চালু করা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এসব পদক্ষেপের প্রভাব দৃশ্যমান হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে।
পূর্ববর্তী মুদ্রানীতিতে জানুয়ারি-জুন সময়ের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৮ শতাংশ। তবে মে মাস পর্যন্ত প্রকৃত প্রবৃদ্ধি সেই লক্ষ্যের চেয়ে অনেক কম ছিল।
ঋণের এই কম চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক তার সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, বিদ্যমান নীতিগত সহায়তা ও শিথিলকরণ ব্যবস্থার ফলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ঋণপ্রবাহ ধীরে ধীরে বাড়বে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মে মাস শেষে সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি বেশ কমে ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা এপ্রিলে ছিল ৩০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী ছয় মাসের জন্য সরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ২১ দশমিক ৮ শতাংশ প্রাক্কলন করেছে।
একই সাথে সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধিও কমেছে। এপ্রিলে যেখানে অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ, মে মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশে।
মে মাসে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা উন্নতি হলেও সরকারি খাতে ঋণ নেওয়ার গতি কমে যাওয়ায় সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ ঋণ সম্প্রসারণের গতি মন্থর হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে আগামী ছয় মাসের জন্য সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ।


