বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ভেঙে পৃথক রেগুলেটর ও অপারেটর সংস্থা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বুধবার পাঠানো এক সরকারি চিঠির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তের কথা বেবিচককে জানায়।
বর্তমানে বেবিচক একই সঙ্গে রেগুলেটর ও অপারেটরের দায়িত্ব পালন করছে। বৃহস্পতিবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রেগুলেটর হিসেবে সংস্থাটি বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা তদারকি করে, আর অপারেটর হিসেবে এয়ার নেভিগেশন পরিষেবা দেয় এবং দেশের বিমানবন্দরগুলো পরিচালনা করে।
এই দ্বৈত ভূমিকার কারণে রেগুলেটর হিসেবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হচ্ছে বলে সরকারের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গাইজেশন (আইসিএও) পরিচালিত এক অডিটেও বেবিচকের রেগুলেটর ও অপারেটর সত্তা পৃথক করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে একই সুপারিশ করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ওই তদন্ত কমিটি বেবিচকের অপারেটর ও রেগুলেটর কার্যক্রম আলাদা করার ওপর গুরুত্ব দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে সরকার বেবিচককে বিভক্ত করে পৃথক রেগুলেটর ও অপারেটর সংস্থা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।
সরকারি চিঠিতে বলা হয়, প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি প্রণয়ন ও সংশোধনের মাধ্যমে অতি শিগগিরই এয়ার নেভিগেশন পরিষেবা প্রদান এবং বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য একটি পৃথক অপারেটর সংস্থা গঠন করা হবে।
এতে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের সেবার মান উন্নত হবে বলে মনে করছে সরকার।


