বুলেটের ক্ষত বয়ে চলে গেলেন জুলাইযোদ্ধা

বুলেটের ক্ষত বয়ে চলে গেলেন জুলাইযোদ্ধা
তানভীরুল ইসলাম। ছবি: এনসিপির সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছিলেন তানভীরুল ইসলাম (২৬)। কোমরের এক পাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল বুলেট। সেই আঘাতের পর প্রায়ই অসুস্থ ছিলেন। তীব্র ব্যথায় খুঁড়িয়ে হাঁটতেন, কষ্টে কান্নাকাটিও করতেন। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন এই জুলাইযোদ্ধা।

বুধবার সকাল ১০টায় তার মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মীর শোয়াইব।

তানভীরুল এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি বায়েজিদ থানা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বাড়ি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার হিলপাড়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মো. আবু ইউসুফের ছেলে। চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ থানার টেক্সটাইল এলাকার জামাল উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি।

এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনে গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে তানভীরুল প্রায়ই নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগতেন। এক সপ্তাহ ভালো থাকলে পরের সপ্তাহেই আবার মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়তেন। নিয়মিত একসঙ্গে একাধিক ওষুধ সেবন করতে হতো তাকে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঠিকমতো কাজ করতে না পারায় তীব্র আর্থিক সংকটেও পড়েন তিনি।

দলের একাধিক নেতার ভাষ্য, দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, চিকিৎসার ব্যয় ও আয়রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তানভীরুলের মধ্যে চরম মানসিক হতাশা তৈরি হয়েছিল।

আরও পড়ুন

তার মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে শোয়াইব বলেন, একসঙ্গে একাধিক ওষুধের প্রতিক্রিয়া কিংবা দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক হতাশা থেকে হার্ট অ্যাটাক হয়ে তার মৃত্যু ঘটে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর পেছনে বিষপানের যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য বা প্রমাণভিত্তিক কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই বলে জানান তিনি।

শোয়াইব বলেন, বুধবার সকাল ১০টায় তানভীরুলের মৃত্যু হলেও সরকারি ছুটি থাকায় এবং পরিবার ময়নাতদন্ত করাবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগায় প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়। ছুটির দিনে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়। পরে বৃহস্পতিবার সকালে চমেক হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মইনুদ্দিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তানভীরুল। কোমরের এক পাশ দিয়ে বুলেট ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। তিনি তালিকাভুক্ত আহত জুলাইযোদ্ধা ছিলেন। তীব্র ব্যথার কারণে প্রায়ই খুঁড়িয়ে হাঁটতেন এবং কষ্টে কান্নাকাটি করতেন।

ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে চমেক হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন। তিনি সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করেন এবং দাফন-কাফনের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন বলে জানান শোয়াইব। এ বিষয়ে জানতে শরীফ উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিবারের কাছে তানভীরুলের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। চট্টগ্রামে তার আলাদা কোনো জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি। স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে কুমিল্লার লাকসামের হিলপাড়া গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানেই তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad