টানা দুই বছর বন্ধ থাকার পর বুধবার থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে দেশের সবচেয়ে উঁচু পর্বত চূড়া বান্দরবানের কেওক্রাডং পর্যটন স্পট।
শনিবার বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে বান্দরবান জেলা প্রশাসন নীতিগতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, কয়েক বছর আগেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্র্যাকাররা কেওক্রাডং ও তাজিংডং চূড়ায় যাতায়াত করতেন। সেনা প্রকৌশল বিভাগ ইসিবির মাধ্যমে সরকার রুমার বগালেক থেকে কেওক্রাডং পর্যন্ত পাকা সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)’ এর সামরিক তৎপরতার মুখে জননিরাপত্তার স্বার্থে বান্দরবান পার্বত্য জেলার বিকাশমান পর্যটন এলাকা রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূলে আসার পর একে একে দুর্গম এলাকাগুলোতে অবস্থিত প্রাকৃতিক পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে রুমার বগালেক, থানচির তমাতুঙ্গি ও তিন্দু এবং রোয়াংছড়ির দেবতাকুম খুলে দেওয়া হয়েছে।
রুমা উপজেলার ব্যবসায়ী জাফর উল্লাহ বলেন, বিধিনিষেধের কারণে রুমার পর্যটন সংশ্লিষ্টরা সীমাহীন অসুবিধায় ছিলেন। পর্যটনকে কেন্দ্র করে পাহাড়িদের অনেকেই এই খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসেন। কিন্তু দুই বছর পর্যটক যাতায়াত বন্ধ থাকায় তাদের প্রায় সবাই পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছেন। নতুন পদক্ষেপ তাদের মধ্যে আশা জাগাবে।
বান্দরবান হোটেল-মোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত বান্দরবানের পর্যটন শিল্প বিকাশে অবদান রাখবে।
‘পর্যটকদের জন্য কেওক্রাডং খুলে দেওয়ার বিষয়টি নীতিগতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। তবে, এ বিষয়ে এখনো প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি’ বলে জানান বান্দরবান জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেকক্টর (এনডিসি) আসিফ রায়হান।


