ইরানে হামলার ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন খুব কঠিন সময়ে বাস করছি, সময়টা খুবই অস্থির। কারণ বিশ্ব রাজনীতিতে ভয়াবহ নৈতিকতার অভাব দেখা দিয়েছে।’
সোমবার বিকালে ধানমন্ডির ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএসটি) মিলনায়তনে অধ্যাপক শাহিদা রফিকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক শাহিদা রফিক ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার স্ত্রী। এ ছাড়া তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন ও আইএসটির চেয়ারম্যানেরও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিনা কারণে একটি দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ, রাষ্ট্রের প্রধান এবং একটি মতবাদের প্রধানকে হত্যা করা, কিংবা একটা স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে গিয়ে জেলে পুড়ে দেওয়া এক ভয়াবহ বিশ্ব।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যারা কিছুটা পুরোনো মানুষ, আমরা বেড়ে উঠেছি গণতান্ত্রিক একটা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে, চিন্তার মধ্য দিয়ে। আমাদের ধ্যান-ধারণা চিন্তা ভাবনার মধ্যে সবসময় গণতান্ত্রিক চিন্তাভাবনাই আছে। আমরা মানবিক মূল্যবোধ, মানবতায় ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। প্রতিটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। এরকম মানুষগুলো আমরা এখন অত্যন্ত কষ্টে আছি। চতুর্দিককার অবস্থা দেখে আমরা কেমন যেন হতাশ হয়ে পড়ছি। বাংলাদেশেও ঠিক একইভাবে অস্থিরতার মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি। আল্লাহর কাছে হাজারো শুকরিয়া জানাই যে, তার অশেষ রহমতে বাংলাদেশের মানুষ এখনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বিচলিত হয় না, দ্বিধা করে না।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। বিগত ১৭/১৮ বছরে আমাদের সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফ্যাসিস্ট শক্তি ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ধ্বংস করেছে শিক্ষা ব্যবস্থাকে।’
তিনি বলেন, ‘এটাকে আবার টেনে ওপরে তোলা, প্রতিষ্ঠানগুলোকে গড়ে তোলা, রাষ্ট্রকে সত্যিকার অর্থে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা, মানুষের অধিকারগুলোকে প্রতিষ্ঠা করা, ন্যায়ের শাসনকে প্রতিষ্ঠা করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠা করা, এই বিষয়গুলোকে সামনে আবার নিয়ে আসতে হবে। আমাদের সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।’
অধ্যাপক শাহিদা রফিকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তিনি ছিলেন সেই জাতের একজন মানুষ, যিনি সত্যকে সত্য বলতেন, কালোকে কালো, ন্যায়কে ন্যায় ও অন্যায়কে অন্যায় বলতেন। আমার প্রায় মনে পড়ে একসঙ্গে কাজ করেছি দীর্ঘদিন। রাজপথে আমার সঙ্গে হেঁটেছেন, স্লোগান দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়েছিল, সবগুলোকে মোকাবিলা করে তিনি কিন্তু সামনের দিকে এগিয়ে গেছেন।’
তিনি বলেন, ‘শাহিদা রফিকের প্রতি আমরা তখনই সম্মান দেখাতে পারব, যখন তার যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, ইচ্ছা ছিল, তিনি যে কাজগুলো করতে চেয়েছিলেন, যদি আমরা তা পূরণ করতে পারি।‘
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যেন আল্লাহতালা তাকে বেহেশত নসিব করেন।’


