বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কারে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘কোনো ধরনের পরিবর্তন যেন সংস্থাটির মূল নীতিগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।’
ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ডব্লিউটিওর ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের ‘ডব্লিউটিও রিফরম: ফান্ডামেন্টাল ইস্যুস’ শীর্ষক সেশনে তিনি একথা বলেন। শুক্রবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
মুকতাদির বলেন, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই ডব্লিউটিওর মূল ভিত্তি। ঐকমত্যভিত্তিক ও নিয়ম-নির্ভর এই ব্যবস্থা, যা বৈষম্যহীনতা ও অন্তর্ভুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, উন্নত, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত—সব দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করে।
তিনি উল্লেখ করেন, সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ (এমএফএন), শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা (ডিএফকিউএফ) এবং বিশেষ ও পার্থক্যমূলক সুবিধা (এস এন্ড ডিটি) বিশ্ব বাণিজ্যে সমতা ও অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।
আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট এবং কোভিড-১৯ মহামারি ছাড়া গত তিন দশকে উন্নত দেশগুলোর মধ্যম আয় ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, যা বর্তমান বাণিজ্য ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণ করে।
ডব্লিউটিও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে তিনি বলেন, সংস্কারের নামে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বর্তমান কাঠামো ভেঙে ফেলা উচিত নয়। বরং সংস্কার প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থার অখণ্ডতা বজায় রাখা, পূর্বের অর্জন সংরক্ষণ করা এবং সব সদস্য দেশের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী ফলাফল নিশ্চিত করা জরুরি।
উল্লেখ্য, ১৬৬টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনটি বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। মুকতাদিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।


