বিয়ের বাজারে অন্য পেশার তুলনায় আইনজীবীরা পিছিয়ে আছেন মন্তব্য করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইনজীবীরা নিজেরা নিজেদের গায়ে কলঙ্ক লেপন করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাই আগে নিজেদের বদলাতে হবে।
রোববার চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে আয়োজিত প্রশিক্ষন কর্মশালা ও নবীন সদস্যদের বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিজের বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রেম করে বিয়ে করেছিলাম। শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে প্রথমে বিসিএস বা জুডিশিয়ারিতে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তখন বলেছিলাম, রাজনীতি ও উকালতি করব; ভালো লাগলে বিয়ে দেবেন, না হলে দেবেন না।’
আইনজীবী হওয়ার শর্টকাট কোনো পথ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী জুনিয়রদের উদ্দেশে বলেন, ‘পয়সার পেছনে ছোটাছুটি করার দরকার নেই, দক্ষতা বাড়ালে পয়সাই পেছনে ছুটবে।’
তিনি আইনজীবীদের বিনামূল্যে অন্তত কিছু মামলা পরিচালনা করার আহ্বান জানিয়ে একে পেশাগত ‘জাকাত’ হিসেবে বিবেচনা করার পরমর্শ দেন। একই সঙ্গে প্রবীণ-নবীন সব আইনজীবীর পেশাগত উৎকর্ষে প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন তিনি।
রাজনীতি ও দুর্নীতির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার দলের কেউ এমনকি আমি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হলেও আপনার স্থান থেকে প্রতিবাদ করবেন। ১ হাজার ৪০০ শহীদ এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার চেতনা রক্ষায় শিশুদের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে হবে।’
এ সময় টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে আইনমন্ত্রী জানান, গত ১৬ বছরে নথিভুক্ত উপায়ে দেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অবৈধভাবে পাচার হয়েছে।
খুলনায় পৌনে চার কিলোমিটার সড়কে ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ ও পিরোজপুরে কাগজে-কলমে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার কাজ দেখিয়ে লুটপাটের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন ও সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ানসহ বিচার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


