আইনজীবী অন্তর্ভুক্তি লিখিত পরীক্ষায় গত বছর ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত রিভিউ ফল বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে রায় ঘোষণা দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে বার কাউন্সিলের প্রথম রিভিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে যারা দ্বিতীয় রিভিউ পরীক্ষায় বাদ পড়েছেন তাদের সরাসরি আইনজীবী তালিকাভুক্তির ভাইভায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে বলা হয়েছে।
এর ফলে ১ হাজার ৩৫০ শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মৌখিক পরীক্ষায় বসার সুযোগ সৃষ্টি হলো। রিটকারীদের আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম বিষয়টি টাইমসকে নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ (অ্যাবসলুট) ঘোষণা করে বুধবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে।
আদালতে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী, বদরুদ্দোজা বাদল, সৈয়দ মামুন মাহবুব, এম আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ। এর আগে গত বছরের ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত রিভিউ ফলাফল বাতিলের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১২ শতাধিক শিক্ষার্থীর রিভিউ ফলাফল বাতিল ঘোষণা করে বার কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে জানতে চেয়ে জারি করে হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে, তাদের বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে কেন পজিটিভ বিবেচনা করা হবে না তাও জানতে চাওয়া হয় রুলে। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট এই রুল জারি করে। আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত লিখিত ফলাফলে সাত হাজার ৯১৭ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন।
বাকিদের মধ্যে অনেকেই দাবি করেন, তারা পাস করার মতো ভালো পরীক্ষা দিয়েছেন, কিন্তু প্রকাশিত ফলাফলে তাদের রোল নম্বর আসেনি। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ অক্টোবর বার কাউন্সিল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খাতা রিভিউ বা নিরীক্ষার আবেদন আহ্বান করে।
নির্ধারিত বিধি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন গ্রহণ ও পর্যালোচনা শেষে ১৮ নভেম্বর বার কাউন্সিল ও এনরোলমেন্ট কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে নিরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে। এতে এক হাজার ৯১৪ জন শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ঘোষণা করা হয়। ফলে তারা ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুস্পষ্ট আইনসম্মত অধিকার অর্জন করেন।
তবে নিরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় অল্প কয়েকজনের আপত্তির মুখে ২৩ নভেম্বর আরেকটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুরো নিরীক্ষার ফলাফল বাতিল ঘোষণা করে নতুন করে খাতা মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত জানায় বার কাউন্সিল।
পুনরায় খাতা মূল্যায়ন শেষে চলতি বছরের ৫ মার্চ নতুন করে নিরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে বার কাউন্সিল। এতে এক হাজার ৫৫০ জনকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়, যেখানে প্রথম ধাপে উত্তীর্ণ এক হাজার ৯১৪ জনের ভেতরে এক হাজার ২৯৪ জন শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে বাদ দেওয়া হয়।
পাশাপাশি এই ফলাফলে বার কাউন্সিলের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে ৪৬ কিংবা এর চেয়ে কম নম্বর পাওয়া ৯ শতাধিক পরীক্ষার্থীকে পাস দেখানো হয়।


