দেশের ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডস (আইএফআরএস) ৯ ভিত্তিক সম্ভাব্য ঋণ ক্ষতির পূর্বাভাসভিত্তিক বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোটি অনুযায়ী দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড ঋণ সুবিধায় এটি ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হবে। অন্য আর্থিক উপকরণের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গভাবে এটি ১ জানুয়ারি ২০২৯ থেকে প্রয়োগ করা হবে।
কাঠামোটির অধীনে ব্যাংকগুলোকে সম্ভাব্য ঋণ ক্ষতির পূর্বাভাসের ভিত্তিতে প্রভিশন তৈরি করতে হবে, যা ঝুঁকি দ্রুত শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনা করতে সহায়তা করবে।
ব্যাংকগুলো ঋণের ঝুঁকি মূল্যায়নের সময় অতীত তথ্যের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সুদের হার এবং মূল্যস্ফীতি বিবেচনা করবে।
ঋণসমূহ তিনটি ধাপে শ্রেণিকরণ করা হবে। প্রথম ধাপে স্বাভাবিক ঋণ ১২ মাসের সম্ভাব্য ক্ষতির ভিত্তিতে প্রভিশন করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি বৃদ্ধি হলে পুরো মেয়াদের ক্ষতির ভিত্তিতে প্রভিশন নির্ধারণ করা হবে। তৃতীয় ধাপে ক্ষতিগ্রস্ত ঋণও পুরো মেয়াদের ক্ষতির ভিত্তিতে প্রভিশন করা হবে।
নতুন কাঠামোতে লোন কমিটমেন্ট, ব্যাংক গ্যারান্টি এবং অব্যবহৃত ঋণ সীমার মতো অফ-ব্যালেন্স শিট ঝুঁকিও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া, সুদের হিসাবও ঋণের ঝুঁকি স্তরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে, যা ব্যাংকের প্রকৃত আয় ও ঝুঁকি পরিস্থিতি আরও বাস্তবসম্মতভাবে প্রতিফলিত করবে।
আইএফআরএস ৯ বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালী তথ্যভিত্তিক অবকাঠামো, ঝুঁকি মডেল এবং যাচাই প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন সহায়তা, তদারকি এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে নতুন কাঠামোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশ বাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, নতুন কাঠামোর ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে, আর্থিক প্রতিবেদন স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে এবং আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।
বর্তমানে বিআরপিডির সার্কুলার অনুযায়ী ব্যাংকগুলো ঋণ শ্রেণিকরণ ও প্রভিশনিং পরিচালনা করছে, যা মূলত নিয়মভিত্তিক এবং ঋণের প্রকৃত ক্ষতির ওপর নির্ভরশীল।


