বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ আলোচনা সম্পন্ন

বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ আলোচনা সম্পন্ন
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) সংক্রান্ত আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোটেগি তোশিমিতসুর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ ঘোষণা দেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ–জাপান ইপিএর প্রধান আলোচক আয়েশা আক্তার, উপপ্রধান আলোচক মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ এবং ফোকাল পয়েন্ট মাহবুবা খাতুন মিনু।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আলোচনার প্রাথমিক ধাপে একটি যৌথ গবেষণা দল (জয়েন্ট স্টাডি গ্রুপ) গঠন করা হয়, যা ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে ১৭টি খাত অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত আলোচনার সুপারিশ করা হয়।

পরবর্তীতে সমঝোতাকৃত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ১২ মার্চ ইপিএর আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। প্রথম দফার আলোচনা ১৯-২৩ মে ২০২৪ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলেও কিছু অনিবার্য কারণে আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত থাকে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ইপিএর গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে নতুন করে উদ্যোগ জোরদার করে এবং এক বছরের মধ্যে আলোচনা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে। এর ফলে দ্রুতগতির আলোচনা পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়।

আরও পড়ুন

পরবর্তী সময়ে মোট সাত দফায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দফা ঢাকায় ১০-১৪ নভেম্বর ২০২৪, তৃতীয় দফা টোকিওতে ১৯-২০ ডিসেম্বর ২০২৪, চতুর্থ দফা ঢাকায় ২-৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, পঞ্চম দফা টোকিওতে ২০-২৬ এপ্রিল ২০২৫, ষষ্ঠ দফা ঢাকায় ২১-২৬ জুন ২০২৫ এবং সপ্তম ও চূড়ান্ত দফা টোকিওতে ৩-১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়। এই সাত দফা আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ইপিএর পূর্ণাঙ্গ খসড়া চূড়ান্ত করা হয়।

আলোচনার দ্রুত অগ্রগতির পেছনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন ও বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সরাসরি সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারা একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এবং জাপানে উচ্চপর্যায়ের সফর করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেন, যা চুক্তি চূড়ান্তকরণে গতি আনে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

ইপিএ স্বাক্ষর ও কার্যকর হলে বাংলাদেশ জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। অপরদিকে জাপান বাংলাদেশ থেকে ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সেবা বাণিজ্য খাতেও উভয় পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার করেছে। বাংলাদেশ জাপানের জন্য ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত করবে, আর জাপান বাংলাদেশের জন্য চারটি সরবরাহ পদ্ধতিতে ১২০টি উপখাত উন্মুক্ত করবে। ফলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ এই প্রথম বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি জাপানের সঙ্গে ইপিএ স্বাক্ষরের পথে এগোল। এই চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে ব্যাপক সুফল আসবে এবং বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্কে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

আলোচক পর্যায়ের আলোচনা এখানেই শেষ হয়েছে। পরবর্তী ধাপে উভয় দেশের আইনি পর্যালোচনা (লিগ্যাল স্ক্রাবিং) এবং উপদেষ্টা পরিষদ বা মন্ত্রীসভার অনুমোদন গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad